৮ম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission ) সুপারিশ প্রকাশ হতে এখনও অন্তত দেড় বছর বাকি, কিন্তু তার আগেই কেন্দ্রীয় কর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগামী বছরের প্রথমার্ধে তাদের মহার্ঘ ভাতা (DA) কীভাবে সংশোধিত হবে, সেই বিষয়টি নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। এরই মধ্যে কেন্দ্র সরকারের প্রকাশিত ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ (ToR) ঘিরেও তৈরি হয়েছে নতুন বিভ্রান্তি।
কেন এই বিভ্রান্তি?
আসলে, ৭ম বেতন কমিশনের ১০ বছরের কার্যকাল শেষ হচ্ছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ফলে ২০২৬ থেকে প্রথমবারের মতো ডিএ–ডিআর সংশোধন হবে কোনও সক্রিয় বেতন কমিশন চক্রের বাইরে। আবার ৮ম বেতন কমিশনের রিপোর্ট হাতে আসতে অন্তত ১৮ মাস লাগবে। এই সময়কালে ২০২৬ সালের জানুয়ারি, জুলাই, ২০২৭ সালের জানুয়ারি—এভাবে তিনবার কর্মীদের ডিএ সংশোধন করতে হবে শুধুমাত্র ৭ম বেতন কমিশনের বেসিক স্যালারি অনুযায়ী।
এই পরিস্থিতিতেই কেন্দ্রের প্রকাশিত ToR নিয়ে কর্মী সংগঠন ও ইউনিয়নগুলোর অসন্তোষ বেড়েছে। জাতীয় পরিষদ (NC–JCM)-এর স্টাফ সাইড ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় কর্মী ইউনিয়ন জানিয়েছে, সরকারকে দেওয়া তাদের বিস্তারিত ‘চার্টার অব ডিম্যান্ডস’-এর বহু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ToR-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই আপত্তিগুলোর কোনো জবাব দেয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা জারি রয়েছে। বহু সাংসদও সম্প্রতি সংসদে ToR সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলেছেন। কর্মীদের আশা, ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে চলা সংসদ অধিবেশনেই এই বিষয়ে কিছুটা হলেও পরিষ্কার বার্তা পাওয়া যেতে পারে।
ডিএ হিসাব কীভাবে চলবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন না ৮ম বেতন কমিশন কার্যকর হচ্ছে, ততদিন ডিএ হিসাব চলবে ৭ম বেতন কমিশনের বেসিক স্যালারির ওপরই। প্রতি ছয় মাসে নিয়ম অনুযায়ী ডিএ বাড়বে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মীদের ডিএ ৫৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ এটি ৬১–৬২ শতাংশ ছুঁতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্মীদের আশা:
কেন্দ্রীয় কর্মীরা এখন তাকিয়ে সংসদ ও সরকারের পরবর্তী ঘোষণা দিকে। ToR-এ সংশোধন, বেতন কাঠামো, ডিএ-ডিআর হিসাব—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাসই নির্ধারণ করবে ৮ম বেতন কমিশনের পথ কোন দিকে এগোবে।
