
ভারতের এসইউভি বাজারে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে টাটা মোটরসে’র লাইফস্টাইল এসইউভি টাটা সিয়েরা (Tata Sierra SUV)। বুকিং শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়িটির জন্য এক লক্ষের বেশি অর্ডার জমা পড়েছে। এই ব্যাপক চাহিদার কারণে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাটা মোটরস কর্তৃপক্ষ৷।
টাটা মোটরস ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সিয়েরার বুকিং শুরু করে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম দিনেই ৭০ হাজারের বেশি বুকিং আসে, যা সাম্প্রতিক সময়ে কোনও নতুন এসইউভির ক্ষেত্রে বিরল। এরপর দেশজুড়ে শোরুম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে।
কেন এত চাহিদা?
অটো শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, সিয়েরা টাটার পুরনো আইকনিক নাম ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আধুনিক ডিজাইন, শক্তিশালী ইঞ্জিন অপশন এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে দ্রুত নজর কেড়েছে। মেট্রো শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও টিয়ার-২ বাজারেও গাড়িটির চাহিদা সমানভাবে শক্তিশালী বলে জানিয়েছে সংস্থা।
এই বিপুল বুকিংয়ের জেরে কিছু ভেরিয়েন্টে অপেক্ষার সময় বেড়ে গেছে। সেই কারণেই উৎপাদন পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনা করছে টাটা মোটরস।
উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, সিয়েরার উৎপাদন ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। এর জন্য কারখানায় শিফট টাইমিং পুনর্বিন্যাস, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যন্ত্রাংশের জোগান বাড়ানো এবং প্রয়োজনে অন্য মডেলের উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে গুণমান বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য, তাই হঠাৎ করে উৎপাদন বাড়ানো হবে না।
ইতিমধ্যেই নির্বাচিত কিছু বাজারে সিয়েরার ডেলিভারি শুরু হয়েছে। উৎপাদন বাড়লে আগামী কয়েক মাসে আরও বেশি গ্রাহকের হাতে গাড়ি পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইঞ্জিন ও দাম
টাটা সিয়েরা পাওয়া যাচ্ছে তিনটি ১.৫ লিটার ইঞ্জিন বিকল্পে,
- রেভোট্রন ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল
- ক্রিয়োটেক ডিজেল
- TGDi হাইপেরিয়ন টার্বো পেট্রোল
ট্রান্সমিশন হিসেবে রয়েছে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল, ৭-স্পিড DCT এবং ৬-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্স।
দাম শুরু হচ্ছে ১১.৪৯ লক্ষ টাকা থেকে, আর টপ ভেরিয়েন্টের এক্স-শোরুম দাম ২১.২৯ টাকা লক্ষ পর্যন্ত।
সংস্থার দাবি, বেস ভেরিয়েন্ট থেকেই সিয়েরায় আধুনিক ফিচারের ঘাটতি নেই, যা একে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এক লাখের বেশি বুকিং টাটা সিয়েরাকে টাটা মোটরসের দ্রুততম জনপ্রিয় মডেলগুলির তালিকায় এনে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, উৎপাদন বাড়িয়ে কত দ্রুত এই চাহিদা মেটাতে পারে সংস্থা।

