ইসলামিক রাষ্ট্র ওমানের সঙ্গে আয়ুর্বেদ-চুক্তি ভারতের

ভারতের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা-পদ্ধতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হল। ইসলামিক রাষ্ট্র ওমানের সঙ্গে আয়ুর্বেদ ও AYUSH ব্যবস্থাকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। এই চুক্তির ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Updated:

Follow Us
india-oman-ayurveda-ayush-agreement-islamic-country

ভারতের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা-পদ্ধতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হল। ইসলামিক রাষ্ট্র ওমানের সঙ্গে আয়ুর্বেদ ও AYUSH ব্যবস্থাকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। এই চুক্তির ফলে আয়ুর্বেদ, যোগ, ইউনানি, সিদ্ধা ও হোমিওপ্যাথি—এই পাঁচটি শাখাকে একত্রে যে AYUSH ব্যবস্থা, তা ওমানের স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস কাঠামোর মধ্যে স্বীকৃত জায়গা পেল। কূটনৈতিক ও বাণিজ্য মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী দেশের সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি ভারতের জন্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারতের AYUSH পণ্য ও পরিষেবার রপ্তানি বেড়ে ৬৮৮.৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬.১১ শতাংশ বৃদ্ধি। ওমান ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিগুলি এই বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ওমানের ক্ষেত্রে আয়ুর্বেদের স্বীকৃতি পাওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও ভারতীয় প্রাকৃতিক চিকিৎসা-পণ্যের বাজার আরও প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

   

এই চুক্তির আওতায় আয়ুর্বেদিক ওষুধ, ভেষজ পণ্য, যোগ-থেরাপি ও ওয়েলনেস পরিষেবাকে ওমানের নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলি এখন আরও সহজে সেখানে ব্যবসা করতে পারবে। শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা কমা, মান্যতার স্বীকৃতি এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন দরজা খুলছে।

চুক্তির প্রতীকী দিকটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একদিকে হলুদ, তুলসী, অ্যালোভেরা, অশ্বগন্ধার মতো প্রাচীন ভেষজ উপাদান—অন্যদিকে দিল্লিতে অবস্থিত AYUSH মন্ত্রকের আধুনিক ভবন। এই দৃশ্যই বোঝায়, কীভাবে হাজার বছরের পুরনো চিকিৎসা জ্ঞানকে আধুনিক রাষ্ট্রনৈতিক নীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করছে ভারত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ওমানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক ও বিকল্প চিকিৎসার প্রতি বাড়তে থাকা আস্থার প্রতিফলন। আধুনিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা ব্যয় এবং জীবনধারাজনিত সমস্যার কারণে বহু মানুষ এখন সমন্বিত বা বিকল্প চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছেন। আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগ—যেমন স্ট্রেস, আর্থ্রাইটিস বা জীবনযাত্রাজনিত অসুস্থতায়—আয়ুর্বেদ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এই বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতিই আন্তর্জাতিক বাজারে আয়ুর্বেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।

ভারত সরকারের মতে, এই চুক্তি শুধু রপ্তানি আয় বাড়াবে না, বরং দেশের ভেতরেও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে। ভেষজ চাষ, কাঁচামাল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও গবেষণার মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান বাড়বে। পাশাপাশি, স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পগুলির জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে মান নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল রোধ এবং বৈজ্ঞানিক ডেটা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। ওমানের মতো দেশের স্বাস্থ্যমানদণ্ড মেনে চলতে গেলে উৎপাদন ও গবেষণায় আরও বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

সব মিলিয়ে, ইসলামিক রাষ্ট্র ওমানের সঙ্গে আয়ুর্বেদ-চুক্তি ভারতের জন্য এক বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য। এটি প্রমাণ করে, ধর্ম বা ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা-পদ্ধতি আজ বৈশ্বিক স্বীকৃতির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google