রণক্ষেত্র শিলিগুড়ি! সীমান্তে বেড়া দেওয়ার সময় BSF কে লক্ষ্য করে পাথর বাংলাদেশিদের

শিলিগুড়ি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত আবার উত্তপ্ত। (Border Fencing)ফাঁসিদেওয়া ও কোচবিহারের বিভিন্ন সেক্টরে বিএসএফ জওয়ানরা যখন আন্তর্জাতিক সীমান্তে বেড়া লাগানোর কাজ করছিলেন, তখন বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকরা তাঁদের…

bsf-border-fencing-clash-siliguri-cooch-behar

শিলিগুড়ি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত আবার উত্তপ্ত। (Border Fencing)ফাঁসিদেওয়া ও কোচবিহারের বিভিন্ন সেক্টরে বিএসএফ জওয়ানরা যখন আন্তর্জাতিক সীমান্তে বেড়া লাগানোর কাজ করছিলেন, তখন বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকরা তাঁদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নিলেও বিএসএফ জওয়ানরা অসাধারণ ধৈর্য ও সংযম দেখিয়েছেন। একটি গুলিও ছোড়েননি তাঁরা। কাজ থামিয়ে দেননি। বরং নিরাপত্তা বজায় রেখে বেড়া লাগানোর কাজ চালিয়ে গেছেন।

   

ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়া এলাকায় এবং কোচবিহারের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী গ্রামে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের কয়েকশো মানুষ সীমান্তের ওপার থেকে পাথর, ইট ছুড়ে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলা চালায়। কয়েকজন জওয়ান সামান্য আহত হয়েছেন বলে খবর। তবে বিএসএফের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁরা সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছেন। কোনও ধরনের প্ররোচনায় পা দেননি।

আরও দেখুনঃ অবশেষে পতন কাঁথি পুরবোর্ডের! তৃণমূলের ১৪ কাউন্সিলরের ইস্তফা, প্রশাসকের চেয়ারে মহকুমা শাস

এই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়েছে উত্তেজনা। তবে বিএসএফ জওয়ানরা নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছেন।দীর্ঘদিন ধরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালান, গরু পাচার, মাদকের চোরাচালান এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল আমলে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে অনুপ্রবেশকারীরা খোলাখুলি আসা-যাওয়া করত।

চোরাচালানের সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার বদলের পর পরিস্থিতি পালটাতে শুরু করেছে। নতুন প্রশাসনের সহযোগিতায় বিএসএফ এখন আরও জোরালোভাবে সীমান্ত সিল করার কাজ করছে।ফাঁসিদেওয়ার এক স্থানীয় বাসিন্দা রতন রায় বলেন, “আগে রাতের অন্ধকারে অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসত। চোরাই মালপত্র নিয়ে যাওয়া হতো। এখন বিএসএফ কড়া নজরদারি করছে। তাই ওপার থেকে বাধা আসছে।

কিন্তু আমরা চাই সীমান্ত পুরোপুরি সিল হয়ে যাক। আমাদের ছেলেমেয়েরা নিরাপদে থাকুক।”বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, বেড়া লাগানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েক কিলোমিটার এলাকায় কাজ শেষ হয়েছে। এই বেড়া শুধু অনুপ্রবেশ আটকাবে না, সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশ এবং মাদকের চোরাচালানও অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে বিএসএফের সফল অভিযানে বেশ কয়েকটি চোরাচালানের চক্র ধরা পড়েছে।তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই ঘটনা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মিটে যাবে। একইসঙ্গে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।