
কাঁথি: রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দ বদল হতেই এবার অধিকারী গড় কাঁথিতেও বড়সড় রাজনৈতিক বিপর্যয়। একযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪ জন কাউন্সিলরের পদত্যাগের জেরে অবশেষে ভেঙে দেওয়া হল কাঁথি পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড। প্রশাসনিক নিয়ম মেনে সোমবার থেকেই কাঁথির মহকুমা শাসক (SDO) ধুমাল প্রতীক অশোক এই পুরসভার নতুন প্রশাসক (Administrator) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। এখন থেকে আগামী পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বেই চলবে কাঁথি পুরসভার সমস্ত প্রশাসনিক ও নাগরিক কাজকর্ম। (Contai Municipality Board Dissolved)
অচলাবস্থার অবসান, মহকুমা শাসকের পাশে বিজেপির সুবল-অরূপরা
এদিন মহকুমা শাসক দায়িত্ব নেওয়ার সময় পুরসভায় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কাঁথির বিজেপি বিধায়ক তথা পুরপ্রতিনিধি অরূপ কুমার দাস, সুশীল দাস, তাপস দোলাই এবং তৃণমূল ছেড়ে পদ্মশিবিরে আসা প্রাক্তন পুরপ্রধান সুবল মান্না। ২১টি ওয়ার্ডের কাঁথি পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিক পরিষেবা থমকে থাকায় ক্ষোভে ফুটছিলেন সাধারণ মানুষ। নবান্নে জমানা বদলের পর থেকেই পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি-সহ তৃণমূলের কাউন্সিলররা পুরসভায় আসা বন্ধ করে দেন। এর পরেই পুরসভার একজিকিউটিভ অফিসার তাঁদের অনুপস্থিতি নিয়ে শোকজ চিঠি পাঠান। সেই চিঠির জবাবেই উপ-পুরপ্রধানসহ ১৪ জন তৃণমূল কাউন্সিলর একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিলে বোর্ডের পতন অনিবার্য হয়ে পড়ে।
‘অচলাবস্থা কাটবে’, বার্তা সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীর
কাঁথির নবনির্বাচিত বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে জানান, “তৃণমূলের উদাসীনতায় কাঁথি পুরসভা একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। আমি নিজেই কয়েকদিন আগে পুরসভায় গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আজ মহকুমা শাসক দায়িত্ব নেওয়ায় এবার মানুষের পরিষেবা পেতে আর কোনও অসুবিধা হবে না।” অন্যদিকে, বিজেপি কাউন্সিলর তথা বিধায়ক অরূপ কুমার দাসের দাবি, “পানীয় জল, রাস্তা, নিকাশি এবং ট্রেড লাইসেন্সের মতো জরুরি পরিষেবা যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পান, নতুন প্রশাসকের আমলে সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হবে।”
২১ ওয়ার্ডের কাঁথিতে সংখ্যার অঙ্ক
রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী, কাঁথি পুরসভার ২১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ছিল তৃণমূলের দখলে, ৩টি বিজেপির এবং ১টি নির্দল। পরবর্তীতে একজন নির্দল কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় গেরুয়া শিবিরের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৪-এ। তবে ১৪ জন ঘাসফুল কাউন্সিলরের এই গণ-ইস্তফায় কাঁথির রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেল। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পুরসভা এখন সরকারি আধিকারিকের নিয়ন্ত্রণে।













