ভারত তার দূরপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতা আরও জোরদার করতে চলেছে (BrahMos-A 800km Range)। ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার উন্নত ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য সংস্করণ ব্রহ্মোস-এ-এর পরীক্ষা শীঘ্রই শুরু হতে পারে। এরপর ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে এটিকে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্রাহ্মোস-এ ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশেষভাবে এসইউ-৩০এমকেআই-এর মতো যুদ্ধবিমান থেকে উৎক্ষেপণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। নতুন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হবে এর ৮০০ কিলোমিটার পাল্লা, যা এর পূর্বসূরীর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ম্যাক ২.৮ থেকে ৩ গতিতে উড়ে, যা এটিকে অত্যন্ত দ্রুত এবং নির্ভুল করে তোলে।
এর সুবিধা কী হবে?
এই ক্ষেপণাস্ত্রটির সংযোজন ভারতীয় বিমান বাহিনীকে শত্রু ভূখণ্ডে প্রবেশ না করেই দূরপাল্লার আক্রমণ চালাতে সক্ষম করবে। যুদ্ধবিমানগুলো নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেই শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শুরু হবে। এরপরে ১-২ বছর সময় ধরে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা চালানো হবে। পরীক্ষায় সফল হলে এটি স্কোয়াড্রন পর্যায়ে মোতায়েন করা হবে।
এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো কী হবে?
এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রটিতে উন্নত জ্বালানি দক্ষতা, হালকা উপকরণ, অত্যাধুনিক দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা এবং উন্নত চালনা ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে এর পাল্লা বেড়েছে, কিন্তু গতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
ব্রহ্মোস কে তৈরি করছে?
ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র হলো ভারত ও রাশিয়ার একটি যৌথ প্রকল্প। এটি ডিআরডিও এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রোইয়েনিয়া যৌথভাবে তৈরি করেছে। ব্রহ্মোস ইতিমধ্যেই ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি প্রধান অস্ত্র। এটি স্থল, সমুদ্র এবং আকাশ—সব জায়গা থেকেই ব্যবহার করা যায়। এখন, এর দূরপাল্লার আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য সংস্করণটির সংযোজন ভারতের দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
২০২৬ সালের পরীক্ষা সফল হলে, ভারত বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ পাল্লার সুপারসনিক আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনাকারী দেশগুলোর কাতারে যোগ দেবে। এর ফলে ভারতের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।




















