ব্রেসব্রিজ স্টেশনের বাইরে ৬০০০ বস্তি উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ দিল আদালত

কলকাতার ব্রেস ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশনের সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৬ হাজার বস্তিবাসীর জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল কলকাতা হাইকোর্ট (eviction stay)। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চ…

brace-bridge-eviction-stay-calcutta-high-court

কলকাতার ব্রেস ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশনের সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৬ হাজার বস্তিবাসীর জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল কলকাতা হাইকোর্ট (eviction stay)। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চ আগামী ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। পূর্ব রেলের তরফে দেওয়া উচ্ছেদ নোটিশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। ফলে আপাতত ঘরছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

   

জানা গিয়েছে, পূর্ব রেল সম্প্রতি ব্রেস ব্রিজ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় থাকা বস্তিবাসীদের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। রেলের দাবি ছিল, ওই জমি সরকারি সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধ দখল রয়েছে। সেই কারণেই উচ্ছেদ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, ‘Public Premises (Eviction of Unauthorised Occupants) Act, 1971’-এ উল্লেখিত বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আরও দেখুনঃ আগামী ৩ মাস কোনও নতুন যোগদান নয়! সাফ করল রাজ্য বিজেপি

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, রেলের জারি করা নোটিশে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। শুধু সামগ্রিকভাবে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাসস্থান ও জীবিকার অধিকারের প্রশ্নও তুলে ধরা হয়। আবেদনকারীদের দাবি, পুনর্বাসনের কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই হাজার হাজার মানুষকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল, যা মানবিক ও আইনি দুই দিক থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য শুনানিতে স্পষ্ট করেন, আইন মেনেই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালাতে হবে। কোনও ব্যক্তিকে নোটিশ না দিয়ে, শুনানির সুযোগ না দিয়ে বা এস্টেট অফিসারের নির্দিষ্ট আদেশ ছাড়া এভাবে উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া যায় না। রেলের তরফে উপযুক্ত নথিপত্র পেশ করার জন্য সময় চাওয়া হলে আদালত সাময়িকভাবে উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ দেয়। আগামী ২০ মে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। তিলজলা ও তপসিয়ার মতো এলাকায় অবৈধ কারখানা ও নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার অভিযানের ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে ব্রেস ব্রিজের এই উচ্ছেদ অভিযানটি সম্পূর্ণভাবে পূর্ব রেলের নিজস্ব প্রকল্প এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছিল। রাজ্য সরকারের সরাসরি ভূমিকা এখানে ছিল না বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে তাঁরা ওই এলাকায় বসবাস করছেন। অনেকেরই জীবিকা, স্কুল, কাজকর্ম এবং দৈনন্দিন জীবন এই এলাকাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। আচমকা উচ্ছেদের নোটিশে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। আদালতের নির্দেশের পর আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় আবারও স্পষ্ট করে দিল যে, সরকারি জমিতে অবৈধ দখল থাকলেও উচ্ছেদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। মানবিক দিক এবং পুনর্বাসনের প্রশ্নও আদালত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে বৃহৎ সংখ্যক মানুষের জীবিকার প্রশ্ন জড়িত থাকলে প্রশাসনকে আরও সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিতে হয়।

এদিকে পূর্ব রেলের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে রেল কর্তৃপক্ষ আদালতে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলেই জানা গিয়েছে। এখন নজর আগামী ২০ মে-র শুনানির দিকে। সেই দিন আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কী নির্দেশ দেয়, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।