বুথে ‘লক্ষ্মণরেখা’! জাল ভোট রুখতে ডবল চেকিং! কড়া দাওয়াই কমিশনের

কলকাতা: ২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে কারচুপি ও অশান্তি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিল নির্বাচন কমিশন। বুথে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবার আক্ষরিক অর্থেই প্রযুক্তির বর্ম তৈরি করা ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
booth security rules 2026

কলকাতা: ২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে কারচুপি ও অশান্তি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিল নির্বাচন কমিশন। বুথে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবার আক্ষরিক অর্থেই প্রযুক্তির বর্ম তৈরি করা হচ্ছে। বুথ চত্বরে ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি থেকে শুরু করে এআই (AI) ক্যামেরার ব্যবহার, বাংলার ভোটে এবার নজিরবিহীন কড়াকড়ি দেখা যাবে।

বুথের চারপাশে ‘লক্ষ্মণ-গণ্ডি’

কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি বুথের ১০০ মিটার এলাকা সাদা চক দিয়ে বৃত্তাকারে ঘিরে দেওয়া হবে। এই এলাকাটি হবে আক্ষরিক অর্থেই ‘লক্ষ্মণরেখা’। ভোটার ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তি, এমনকি রাজনৈতিক দলের কর্মীদেরও এই গণ্ডির ভেতর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভোটারদের পরিচয়পত্র ও নথি যাচাইয়ের জন্য বিএলও (BLO) এবং তাঁদের সহকারীরা এই গণ্ডির বাইরে দুটি টেবিল নিয়ে বসবেন। যাচাই পর্ব সেরে তবেই ভোটাররা বুথে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

   

আধুনিক প্রযুক্তির নজরদারি booth security rules 2026

নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবার মাইক্রো অবজার্ভারদের পোশাকে থাকছে ‘বডি ক্যামেরা’। বুথ চত্বর বা তার আশেপাশে কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি ধরা পড়লেই সেই ফুটেজ সরাসরি পৌঁছে যাবে কমিশনের কন্ট্রোল রুমে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সঙ্গে থাকছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্যামেরা, যা ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ভুয়ো ভোটার শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।

স্লিপ বিলি ও এএসডি (ASD) তালিকায় কড়াকড়ি

ভুয়ো ভোট রুখতে ‘এএসডি’ (অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত এবং মৃত) তালিকার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে কমিশন। এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএলও-দের সরাসরি ভোটারের হাতেই স্লিপ দিতে হবে। স্লিপ দেওয়ার সময় কাকে পাওয়া যায়নি, তার সবিস্তার তথ্য থাকবে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে। এমনকি ভোটের দিন কোনও ‘অনুপস্থিত’ ভোটার ভোট দিতে এলে তাঁকে প্রিসাইডিং অফিসারের কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। যথাযথ নথি ও ছবি মেলানোর পরেই মিলবে ইভিএম-এর বোতাম টেপার সুযোগ।

সচেতনতামূলক প্রচার

ভোট চলাকালীন কোন কোন আচরণ ‘নির্বাচনী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে, সে বিষয়েও বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রযুক্তির এই নিশ্ছিদ্র ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এক স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ অধ্যায় তৈরি করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google