বিএনপির ঐতিহাসিক জয়ে মাথায় হাত পাকিস্তানের

ঢাকা: বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (Bangladesh election)। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্র জোট ২১৩টি আসন জিতেছে, যা ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bnp-landslide-victory-bangladesh-election-2026-pakistan-reaction

ঢাকা: বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (Bangladesh election)। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্র জোট ২১৩টি আসন জিতেছে, যা ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৪টি আসন। এই ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করেছে। কিন্তু কূটনীতিকদের মতে পাকিস্তানের জন্য এটি এক বড় ধাক্কা ও লজ্জার মুহূর্ত।

কারণ জামাত প্রার্থী এবং সমর্থকরা নির্বাচনের আগে বহুবার পাকিস্তান সমর্থনের সংকেত দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে ছিলেন কারণ জামাত জয় পেলেই সংখ্যালঘুদের উপর ফের নেমে আসবে অত্যাচারের খাঁড়া এমনটাই মনে করেছিলেন। সবচেয়ে বড় কথা গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেছিলেন জামাত জিতলে বাংলাদেশ ফের পাকিস্তানের অঙ্গুলি হেলনে চলে আসতে পারে এবং বাংলাদেশে পাক সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলি তাদের আধিপত্য স্থাপন করতে পারে।

   

আরও দেখুন: ব্রহ্মপুত্রের নিচে টুইন টিউব রেল টানেলের সিদ্ধান্ত নিয়ে চমক মোদীর

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে জেনারেশন জেডের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এটি প্রথম সাধারণ নির্বাচন। আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি দীর্ঘ ২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরছে। তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জিতেছেন। প্রাথমিক ফলাফলে বিএনপি জোট ২১৩ আসন পেয়েছে, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (প্রায় ২০০+) অতিক্রম করে।

জামায়াতে ইসলামী ৭৪ আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে, কিন্তু তারা ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে অখণ্ডতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।এই নির্বাচনে একটি অসাধারণ ঘটনা ঘটেছে হিন্দু ভোটার, আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটাররা একত্রিত হয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে বিএনপিকে সমর্থন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে জামায়াতের উত্থান রোধ করতে এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ‘কনসোলিডেশন’ ঘটেছে।

হিন্দু সম্প্রদায়, যারা আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন, এবার বিএনপির পক্ষে ঝুঁকেছেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীও বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন যাতে জামায়াত ক্ষমতায় না আসে। ফলে জামায়াতের প্রত্যাশিত ‘বড় লাফ’ ব্যর্থ হয়েছে।পাকিস্তানের জন্য এই ফলাফল বড় ধাক্কা। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত।

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, পাকিস্তানের অনেক মহলে জামায়াতকে ‘ভাই’ হিসেবে দেখা হয়। বিএনপির বিপুল জয়ে পাকিস্তানের কিছু মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মাথায় হাত’ পড়ার মতো প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি পাকিস্তানের প্রভাবের অবসানের ইঙ্গিত।

পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেও, অনেক পাকিস্তানি বিশ্লেষক মনে করেন এটি তাদের জন্য ‘বড় সেটব্যাক’। জামায়াতের পরাজয়ে পাকিস্তানের আঞ্চলিক প্রভাব কমবে বলে আশঙ্কা।ভারত, আমেরিকা, চিনসহ বিশ্ব নেতারা তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, এটি ‘সিদ্ধান্তমূলক জয়’। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও অভিনন্দন জানিয়েছেন, কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া মিশ্র। বিএনপির জয়কে অনেকে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google