বালোচিস্তানে বালোচ লিবারেশন আর্মির বড় ধরনের সমন্বিত হামলায় (BLA attack)পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১৫০ জন জওয়ান নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে BLA। ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার সকাল থেকে কোয়েট্টা, নোশকি, গোয়াদর, টারবাত, পাঞ্জগুর, মাস্তুং প্রদেশের একাধিক জায়গায় একযোগে হামলা চালানো হয়েছে।
BLA-র যোদ্ধারা দাবি করেছে যে তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, সরকারি ভবন এবং পোস্ট দখল করেছে, পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে বালোচ পতাকা উড়িয়েছে। এটাকে তারা “অপারেশন হিরোফ”-এর সবচেয়ে বড় সমন্বিত আক্রমণ বলে ঘোষণা করেছে, যা পাক আর্মির উপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।হামলা শুরু হয় ভোর ৩টা নাগাদ।
মোদীর মুক্ত বাণিজ্যের বিরোধিতায় আন্দোলনে কিষান মোর্চা
কোয়েট্টায় পুলিশ স্টেশন, লেভিস পোস্ট, ফ্রন্টিয়ার কর্পসের ঘাঁটি, এমনকি একটা হাই-সিকিউরিটি জেলে আক্রমণ হয়েছে। মাস্তুং জেলে জেল থেকে ৩০ জনেরও বেশি বন্দি মুক্ত করে নেওয়া হয়েছে বলে খবর। গোয়াদর ও নোশকিতে প্যারামিলিটারি ইনস্টলেশনে গ্রেনেড ও গুলির আক্রমণ। BLA-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা সেনা কনভয়, পুলিশ চেকপোস্ট এবং সরকারি অফিস লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা, গুলি ও বোমা ব্যবহার করেছে।
তারা দাবি করেছে যে ১৫০-এরও বেশি পাক সেনা ও পুলিশ নিহত হয়েছে, অনেকে আহত। কয়েকটি সরকারি সাইট থেকে পাকিস্তানি পতাকা খুলে ফেলা হয়েছে, যা BLA-র জন্য প্রতীকী বিজয়।পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি ভিন্ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি বলেছেন, হামলা “ফিতনা আল-হিন্দুস্তান” (ভারত-সমর্থিত BLA)-এর।
নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, ৩৭-৫৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে আর নিজেদের ১০ জন নিরাপত্তাকর্মী শহিদ হয়েছেন। পাক আর্মি বলছে, হামলা ১২টিরও বেশি জায়গায় হয়েছে, কিন্তু সবগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ৭০-১০০ জন জঙ্গি মারা গেছে বলে দাবি। কিন্তু BLA-র দাবি অনেক বেশি ১৫০+ পাক সেনা খতম।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়েছে, যাতে BLA যোদ্ধাদের দখলকৃত এলাকা, পতাকা নামানো দেখা যাচ্ছে।এই হামলা বালোচিস্তানে অস্থিরতার নতুন উচ্চতা। গত বছর BLA ট্রেন হাইজ্যাক, চীনা প্রকল্পে আক্রমণ, সেনা কনভয়ে IED এসব করে এসেছে। এবারের আক্রমণ একযোগে একাধিক শহরে, যা BLA-র সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তারা দাবি করছে, পাকিস্তান সরকার বালোচদের সম্পদ লুট করছে, CPEC-এ চীনাদের সুবিধা দিচ্ছে, বালোচ যুবকদের গুম-খুন করছে। স্বাধীন বালোচিস্তানের লড়াই চলবে।




















