
ঝাড়গ্রাম, জঙ্গলমহলের এই প্রত্যন্ত কেন্দ্র আজ সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। (Jhargram)ভোট গণনার প্রাথমিক পর্যায়ে বিজেপি প্রার্থী ৯৭৬ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এক্সিট পোলের যে ট্রেন্ড সামনে এসেছিল, ঠিক সেই ছবিই এখন মাঠে-ময়দানে ফুটে উঠছে। যে ঝাড়গ্রাম একসময় বাম-কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল, পরে তৃণমূলের দখলে চলে যায়, সেখানে এবার গেরুয়া ঢেউ ঢেউ লক্ষ করা যাচ্ছে।
এই জয়ের তাৎপর্য আরও বেশি কারণ এটাই সেই ঝাড়গ্রাম, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ঝালমুড়ি’ স্টপেজ গোটা দেশে খবর হয়েছিল। সেই মুহূর্তটি শুধু একটা ফটো-অপ ছিল না, বরং জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিজেপির সংযোগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। চায়ের দোকানে, হাটে-বাজারে আজ সেই ঝালমুড়ির কথাই ঘুরছে। ভোট গণনার শুরু থেকেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস। ঝাড়গ্রাম শহরের রাস্তায় ছোট ছোট জটলা, উচ্ছ্বাস আর আশা মিশে একাকার।
দলীয় নেতারা বলছেন, এই লিড শুধু সংখ্যা নয়, জঙ্গলমহলের মানুষের মনের পরিবর্তনের প্রমাণ। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় যে উন্নয়নের দাবি ছিল রাস্তা, বিদ্যুৎ, জল, চাকরি সেই অসন্তোষ এবার ভোট হয়ে বেরিয়ে এসেছে বলে অনেকেই মনে করছেন।এদিকে রাজ্যজুড়ে অন্যান্য কেন্দ্রেও বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান দেখা যাচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে যেমন এগিয়ে আছেন, তেমনি দিলীপ ঘোষও তাঁর কেন্দ্রে স্বস্তির লিড নিয়ে এগোচ্ছেন।
এই তিন নেতার এগিয়ে যাওয়া বিজেপির অন্দরে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর মতো প্রভাবশালী নেতা যেখানে শক্ত লড়াইয়ে এগিয়ে, সেখানে ঝাড়গ্রামের ফলাফল আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। জঙ্গলমহলের এই অঞ্চলগুলো একসময় মাওবাদী প্রভাবিত ছিল।
সেই অঞ্চলে এখন গেরুয়া ঝান্ডা উড়ছে এটা বিজেপির কাছে শুধু নির্বাচনী জয় নয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জয়ের মতো।তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এখনও আশা ছাড়েনি। দলের নেতারা বলছেন, গণনা এখনও অনেক দূর। শেষ রাউন্ড পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু স্থানীয় স্তরে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে হতাশা স্পষ্ট। এক প্রাক্তন তৃণমূল সমর্থক বললেন, “আগে তো অনেক স্কিম এসেছে, কিন্তু শেষে যখন দেখি টাকা ঠিকমতো পৌঁছায় না, চাকরি হয় না, তখন তো মানুষ অন্য দিকে তাকায়।”













