কলকাতা: আগামী মাসেই বিধানসভার মহারণ বঙ্গে। কার দখলে যাবে বাংলা তা বলবে নির্বাচনের ফলাফল। (BJP Bankura Candidate)এই আবহেই নিজেদের স্ট্রাটেজি অনুযায়ী ব্যাটিং শুরু করেছে বাংলার রাজনৈতিক দলগুলো। গতকাল সিপিএম এবং বিজেপি তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। সিপিএম যেমন কালীগঞ্জ থেকে তৃণমূল হামলায় মৃত তামান্নার মা সাবিনাকে প্রার্থী করেছে। তেমনই বিজেপির তুরুপের তাস বাঁকুড়ার চন্দনা।
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলার সালতোড়া (এসসি) আসন থেকে বর্তমান বিধায়ক চন্দনা বাউরিকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে যিনি সাধারণ গৃহিণী থেকে বিধায়ক হয়ে উঠেছিলেন, তাঁর এই পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা দলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা এনেছে। চন্দনা বাউরি, যাঁর স্বামী একজন দৈনিক মজুর (মিস্ত্রি), তিনি নিজের সংগ্রামী জীবন দিয়ে দেখিয়েছেন যে, কঠোর পরিশ্রম আর সততা দিয়ে যেকোনো উচ্চতায় পৌঁছানো সম্ভব।
আরও দেখুনঃ ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে তৃণমূলে যোগ বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটারের
চন্দনা বাউরির জীবনটা যেন একটা সত্যিকারের স্বপ্নের গল্প। ১৯৯০-৯১ সালে জন্মগ্রহণকারী এই মহিলা তিন সন্তানের মা। তাঁর স্বামী শ্রবণ বাউরি দিনে ৪০০-৫০০ টাকা মজুরি করে সংসার চালাতেন। পরিবারের অবস্থা এতটাই সঙ্কটময় ছিল যে, কয়েক বছর আগেও তাঁদের বাড়িতে শৌচালয় ছিল না। চন্দনা নিজেও একসময় এমজিএনআরইজিএ প্রকল্পে কাজ করতেন। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। সালতোড়া এলাকার রাস্তাঘাটের দুরবস্থা দেখে তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিলে কাজ শুরু করেন।
রাস্তা মেরামত, পানীয় জলের ব্যবস্থা, স্কুল-কলেজের উন্নয়ন এসব নিয়ে তিনি সরাসরি জড়িয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে এলাকার মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে।২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যখন তাঁকে টিকিট দেয়, তখন অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। একজন দৈনিক মজুরের স্ত্রী, যাঁর নামে খুব কম সম্পত্তি, তিনি কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন? কিন্তু চন্দনা প্রমাণ করেছেন যে, ভোটাররা যোগ্যতা আর সততা দেখেন।
তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সন্তোষ কুমার মণ্ডলকে ৪,০০০-এরও বেশি ভোটে হারিয়ে বিধায়ক হন। জয়ের পর তিনি বলেছিলেন, “আমি সাধারণ মানুষের জন্য লড়াই করেছি। আমার সংগ্রাম দেখে মানুষ বিশ্বাস করেছে।”কিন্তু রাজনীতির পথ সহজ নয়। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর তাঁকে নানা হুমকির মুখোমুখি হতে হয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হামলার ভয় এসবের কারণে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে সেন্ট্রাল সিকিউরিটি (ওয়াই প্লাস বা অনুরূপ) প্রদান করে।
এই নিরাপত্তা কর্মীরা শুধু তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেননি, লকডাউনের সময় তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। খাবার, রেশন, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করে সাহায্য করেছেন। চন্দনা একবার বলেছিলেন, “নিরাপত্তা কর্মীরা আমার পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে গেছে। তারা আমাদের কঠিন সময়ে সঙ্গ দিয়েছে।”
সালতোড়া আসনে বিধায়ক হওয়ার পর চন্দনা রাস্তাঘাটের উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছেন। যে রাস্তাগুলো নিয়ে তিনি লড়াই করতেন, সেগুলো এখন পাকা হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ, জল, শিক্ষা এসব ক্ষেত্রে তাঁর কাজ প্রশংসিত। তিনি বলেন, “আমি জানি কষ্ট কী। তাই আমি চাই আমার এলাকার মানুষ আর কষ্ট না পাক।”




















