জিন্না জিন্দাবাদ স্লোগান তুলে গ্রেফতার স্কুলশিক্ষক মানাউর আলম

প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো জাতীয় গৌরবের দিনে বিহারের সুপৌল জেলায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সরকারি স্কুলের শিক্ষক মানাউর আলমকে গ্রেফতার করল বিহার পুলিশ। অভিযোগ, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস ...

By Sandipa Sil

Published:

Follow Us
bihar-republic-day-jinnah-zindabad-slogan-teacher-arrested

প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো জাতীয় গৌরবের দিনে বিহারের সুপৌল জেলায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সরকারি স্কুলের শিক্ষক মানাউর আলমকে গ্রেফতার করল বিহার পুলিশ। অভিযোগ, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি পড়ুয়াদের দিয়ে ‘জিন্না জিন্দাবাদ’ স্লোগান তোলান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সুপৌল জেলার একটি সরকারি স্কুলে সকালে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান চলছিল। ছাত্রছাত্রীরা স্কুল ইউনিফর্ম পরে মাঠে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল, হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। ঠিক সেই সময় শিক্ষক মানাউর আলম মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে স্লোগান দিতে বলেন। অভিযোগ, তিনি ‘জয় হিন্দ’ বা ‘ভারত মাতা কি জয়’-এর বদলে ‘জিন্না জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে নির্দেশ দেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই স্লোগান ওঠে, যার ভিডিও পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

   

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নীল রঙের শার্ট পরা এক ব্যক্তি ছাত্রদের সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছেন এবং পড়ুয়ারা তা পুনরাবৃত্তি করছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অনুষ্ঠানের মাঝপথেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত জেলা প্রশাসন ও পুলিশের নজরে আনে।

বিহার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মানাউর আলমকে সঙ্গে সঙ্গে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে জাতীয় ভাবাবেগে আঘাত, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা এবং শিশুদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ উগরে পড়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ বহু ব্যবহারকারী প্রজাতন্ত্র দিবসে এমন স্লোগানকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন, আবার অনেকে দেশভাগের স্মৃতি টেনে এনে এই ঘটনাকে জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে মুহাম্মদ আলি জিন্নার নাম জড়িয়ে থাকায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও পাকিস্তান সৃষ্টির সঙ্গে জিন্নার ভূমিকা ভারতীয় জনমানসে আজও সংবেদনশীল বিষয়।

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তরজাও। শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই ঘটনার নিন্দা করেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের কাজ দেশের ঐক্য ও সংবিধানের চেতনাকে আঘাত করে। অন্যদিকে, বিরোধীরা বলছে, আইন আইনের পথে চলবে, তবে পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। জেলা শিক্ষা আধিকারিক জানিয়েছেন, স্কুলে জাতীয় অনুষ্ঠানের সময় কোনওভাবেই বিতর্কিত বা রাজনৈতিক স্লোগান বরদাস্ত করা হবে না। প্রাথমিক তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে মানাউর আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রজাতন্ত্র দিবস ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার স্মরণে পালিত এক গর্বের দিন। সেই দিনে স্কুলের মঞ্চে এমন ঘটনার অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই দেশজুড়ে প্রশ্ন তুলেছে—শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ, শিক্ষাঙ্গনের নিরপেক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক গঠনে কী বার্তা পৌঁছচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sandipa Sil

আইনের ছাত্রী। শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সাংবাদিকের সঙ্গে সংসারের সূত্রে সংবাদে আগ্রহ। কলকাতা24x7-এর মাধ্যমে পথ চলার শুরু।

Follow on Google