কলকাতা: প্রথমবার আয়োজিত খেলো ইন্ডিয়া (Khelo India) ট্রাইবাল স্পোর্টসে ফুটবলে সোনা জিতে ইতিহাস গড়ল বাংলা। রঞ্জন ভট্টাচার্যের কোচিংয়ে গড়া দলটি ফাইনালে আয়োজক ছত্তিশগড়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। রায়পুরের কোটায় স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে নির্ণায়ক একমাত্র গোলটি আসে চাকু মান্ডির পা থেকে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগেই পেনাল্টি থেকে তিনি গোল করে বাংলাকে এগিয়ে দেন, যা শেষ পর্যন্ত জয়ের ব্যবধান গড়ে দেয়।
মুম্বই ম্যাচ ভুলে এবার জামশেদপুরকে আটকানোর চ্যালেঞ্জ বাগানের
দেশজুড়ে এই প্রথমবার আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্রীড়াবিদদের নিয়ে এমন বড় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হল। মোট ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে প্রায় ৩০০০ ক্রীড়াবিদ অংশ নেন এই প্রতিযোগিতায়। ২৫ মার্চ শুরু হওয়া এই আসরে মোট সাতটি খেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফুটবলের পুরুষ বিভাগে শুরু থেকেই দাপট দেখায় বাংলা দল। সেমিফাইনালে গোয়াকে ৫-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলা। সেই ম্যাচের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দিলীপ ওরাওঁ, অমিত টুডুদের কাছ থেকে ফাইনালেও বড় প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলার ছেলেরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। তবে সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমদিকে গোলের দেখা মিলছিল না।
IPL 2026 খেলতে বোর্ডের বিরুদ্ধে মামলা শ্রীলঙ্কান পেসার নুয়ান থুশারার
ম্যাচের ১২ মিনিটেই একটি সুবর্ণ সুযোগ পায় বাংলা। পেনাল্টি পায় দল, কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি বিজয় মুর্মু। ফলে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে আবার পেনাল্টি পায় বাংলা। এবার দায়িত্ব নেন চাকু মান্ডি এবং তিনি কোনো ভুল করেননি। ছত্তিশগড়ের গোলকিপারকে ভুল পথে পাঠিয়ে বাঁদিকের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি।দ্বিতীয়ার্ধে ছত্তিশগড় ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করে। তারা একাধিক আক্রমণ শানালেও বাংলার ডিফেন্স ছিল অত্যন্ত শক্তপোক্ত। রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় কোনও সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি প্রতিপক্ষ। ফলে শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলা এবং সোনা জিতে নেয়।
এই জয়ের পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বাংলার কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য। এই দিনটি তাঁর জন্য বিশেষ আবেগের, কারণ এদিনই ছিল তাঁর মায়ের প্রয়াণবার্ষিকী। পাশাপাশি তাঁর মনে পড়ে যায় পাঁচ বছর আগের সন্তোষ ট্রফির ফাইনালের কথা, যেখানে কেরলের কাছে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বাংলার। এবার সেই আক্ষেপ মুছে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর রঞ্জন বলেন, এই সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ফুটবলারদের। তাঁর কথায়, খেলোয়াড়রা অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে খেলেছে এবং মাঠে নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। তিনি শুধু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে দল যেভাবে আধিপত্য দেখিয়েছে, তা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ফাইনালে আরও বড় ব্যবধানে জেতার সুযোগ ছিল বলেও মনে করেন কোচ, যদিও একটি পেনাল্টি মিস হয়েছিল। তবে এসব খেলাধুলারই অংশ বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে, নতুন এই প্রতিযোগিতার মঞ্চে বাংলার এই সাফল্য ভবিষ্যতের জন্য বড় আত্মবিশ্বাস জোগাবে।




















