কলকাতা: বাংলার ফুটবলে (Bengal Football) খেলোয়াড় ও ক্লাবগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, তার থেকে অনেকটাই আড়ালে থেকে যায় রেফারিদের জীবন ও সংগ্রাম। অথচ একটি ম্যাচের সঠিক পরিচালনা অনেকাংশেই নির্ভর করে তাঁদের উপর। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিতর্ক, অভিযোগ এবং চাপের মুখে পড়ে বাংলার রেফারিদের অবস্থা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। গত মরশুমে ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত কলকাতা লিগে একাধিক ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি সুইজারল্যান্ড-জার্মান, কোথায় আর কখন দেখবেন?
বিশেষ করে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট বনাম মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ম্যাচে একটি পেনাল্টি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। ম্যাচের প্রধান রেফারি সৌমেন মণ্ডলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন মহামেডানের কর্মকর্তারা। যদিও পরে ভিডিও বিশ্লেষণে সিদ্ধান্তটি আংশিক সঠিক বলেই উঠে আসে, তবুও বিতর্ক থামেনি।একইভাবে, ইস্টবেঙ্গল এফসি-র একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অফসাইড গোল মঞ্জুর করা নিয়ে রেফারি অরিন্দম সরকারের সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়ে। ক্লাব সমর্থকদের বিক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে ম্যাচের পর রেফারিকে নিরাপত্তা দিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। এই ঘটনাগুলি দেখিয়ে দেয়, মাঠের সিদ্ধান্ত কতটা চাপের মধ্যে নিতে হয় তাঁদের।
আরও পড়ুন: সায়ন্তিকার নামে ফেক অ্যাকাউন্ট! বরানগরে তুঙ্গে সায়ন্তিকা-সজল তরজা
শুধু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক নয়, মাঝে মধ্যেই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগও উঠে আসছে। যদিও প্রমাণের অভাবে বেশিরভাগ অভিযোগই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও এই ধরনের অভিযোগ রেফারিদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। কয়েকজন সিনিয়র রেফারি যেমন প্রদীপ দত্ত ও সঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, “একটা ভুল সিদ্ধান্ত মানেই আমাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।” রেফারিদের আর্থিক দিকটাও খুব একটা শক্তিশালী নয়। অনেক সময় ম্যাচ ফি দেরিতে পাওয়া যায়, আবার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা প্রযুক্তিগত সহায়তাও নেই। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে তাঁদের সিদ্ধান্ত আরও বেশি বিতর্কের মুখে পড়ে।তরুণ রেফারিদের মধ্যেও এই পেশা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
অনেকেই শুরুতে আগ্রহ দেখালেও পরবর্তীতে চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পিছু হটছেন। ফলে ভবিষ্যতে দক্ষ রেফারির অভাব আরও প্রকট হতে পারে।সব মিলিয়ে, বাংলার ফুটবলে রেফারিরা এখন এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সবচেয়ে বড় কথা—সম্মান ও নিরাপত্তা। না হলে খেলার মান উন্নত করা সম্ভব হলেও, ম্যাচ পরিচালনার মূল স্তম্ভটাই দুর্বল হয়ে পড়বে।




















