জয়ন্তী পাহাড়ে গ্রেফতার ১৮ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

মেঘালয়ের জয়ন্তী পাহাড়ে ফের বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী (Bangladeshi)। অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে চালানো এক যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে। ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৬ সালের ...

By Sandipa Sil

Published:

Follow Us
bangladeshi-infiltrators-arrested-west-jaintia

মেঘালয়ের জয়ন্তী পাহাড়ে ফের বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী (Bangladeshi)। অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে চালানো এক যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে। ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি, মেঘালয়ের পশ্চিম জয়ন্তী পাহাড় (West Jaintia Hills) জেলায়। পু

লিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশের পর গোপনে গাড়িতে করে অন্য রাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করছিল এই অনুপ্রবেশকারীরা। নির্দিষ্ট সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

   

ভারতের এই রাজ্যের হাত ধরে সারা দেশে নিষিদ্ধ হবে সোশ্যাল মিডিয়া?

পুলিশ জানিয়েছে, শুধু বাংলাদেশি নাগরিকরাই নয়, এই অনুপ্রবেশ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জন ভারতীয় দালালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম মেবান ডিখার (Meban Dkhar) এবং মেলারি রাসমুট (Melari Rasmut)।

অভিযোগ, এই দুই ব্যক্তি অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্ত এলাকা থেকে নিরাপদে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার বন্দোবস্ত করছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গাড়ি ব্যবহার করে তাঁদের অসম ও অন্যান্য রাজ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।

অভিযানের সময়কার একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাঁদের মুখ ঝাপসা করে দেখানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

সংবাদসংস্থা UNI এবং The Print-সহ একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। যদিও কিছু আপডেটে বলা হচ্ছে, এই চক্রের সঙ্গে মোট সাতজন ভারতীয় দালাল জড়িত থাকতে পারে, যার মধ্যে একাধিক গাড়িচালকও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত অঞ্চল, বিশেষ করে মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অনুপ্রবেশের জন্য সংবেদনশীল বলে পরিচিত। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একাংশ পাহাড়ি ও জঙ্গলঘেরা হওয়ায় নজরদারি চালানো তুলনামূলকভাবে কঠিন।

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন চক্র দীর্ঘদিন ধরেই মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ। ২০২৪ সালের পর থেকে এই ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক চাপ, কাজের অভাব এবং দারিদ্র্যের কারণে অনেক মানুষ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের ঝুঁকি নিচ্ছে। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। তারা মোটা টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাপনা করে দেয়। জয়ন্তী পাহাড়ের সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই বড় ছবিরই একটি অংশ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

মেঘালয় পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং কিভাবে, কোন রুট ব্যবহার করে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গেও তথ্য আদান-প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, আবার শাসক পক্ষের বক্তব্য, লাগাতার অভিযানের ফলেই এই ধরনের চক্র ধরা পড়ছে। সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, শুধু গ্রেফতার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও শক্ত করতে হবে।

সব মিলিয়ে, জয়ন্তী পাহাড়ে ১৮ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতারের ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জের কথা। তদন্ত শেষ হলে এই চক্রের আসল মাথাদের নাম সামনে আসবে বলেই আশা করছে প্রশাসন।

Sandipa Sil

আইনের ছাত্রী। শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সাংবাদিকের সঙ্গে সংসারের সূত্রে সংবাদে আগ্রহ। কলকাতা24x7-এর মাধ্যমে পথ চলার শুরু।

Follow on Google