আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশি পোশাকে শুল্ক কমল ১৯ শতাংশ! বড় জয় ইউনূসের

ঢাকা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি আমদানিকৃত পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে আমেরিকা। সোমবার…

US Bangladesh trade agreement

ঢাকা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি আমদানিকৃত পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে আমেরিকা। সোমবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মহম্মদ ইউনূস এমনটাই ঘোষণা করেছেন৷

এই চুক্তির অধীনে আমেরিকায় উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাক পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ ড. ইউনূস লিখেছেন, “ওয়াশিংটন মার্কিন কাঁচামাল দিয়ে তৈরি নির্দিষ্ট বাংলাদেশি পোশাকের জন্য শূন্য শুল্ক সুবিধা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।”

   

নয় মাসের আলোচনার সুফল

গত নয় মাস ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর এই শুল্ক হ্রাস সম্ভব হল। গত বছরের এপ্রিলে আমেরিকা বাংলাদেশি রফতানির ওপর ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছিল। পরবর্তীতে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে গত আগস্টে ঢাকা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয় এবং এবার তা আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে আনা হল।

ড. ইউনূস এই চুক্তিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত রক্ষার জন্য এবং বিশ্বব্যাপী বস্ত্র সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

চুক্তি স্বাক্ষর ও প্রতিক্রিয়া US Bangladesh trade agreement

ঢাকায় জারি করা একটি সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে আমেরিকার পক্ষে স্বাক্ষর করেন ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার। গ্রিয়ার এই চুক্তির উপসংহারে ড. ইউনূস এবং আলোচক দলের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।

তৈরি পোশাক খাতে প্রভাব

বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হল তৈরি পোশাক খাত, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি এবং জিডিপিতে প্রায় ১০ শতাংশ অবদান রাখে। এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যাদের অধিকাংশই গ্রামীণ ও স্বল্প আয়ের পরিবার থেকে আসা নারী।

শিল্প নেতারা জানিয়েছেন, শুল্কের হার কমে যাওয়ায় বাংলাদেশি নির্মাতারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কঠোর কমপ্লায়েন্সের কারণে গত কয়েক বছর ধরে অনেক কারখানা লড়াই করছিল।

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ চুক্তিটি এমন এক সময়ে এলো যখন বাংলাদেশ একটি সংবেদনশীল সময় পার করছে। গত আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অধীনে থাকা বাংলাদেশে আগামী বৃহস্পতিবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে সহিংসতাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।