‘বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত হিন্দুরাই!’ প্রশংসায় জামাত নেতা

ঢাকা: বাংলাদেশে যেখানে প্রত্যেকদিনই কোনো না (Shishir Monir)কোনো জায়গায় হিন্দু হত্যা বা হিন্দু নির্যাতনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তখনই হিন্দুদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন এক জামাত নেতা।…

shishir-monir-bangladeshi-hindus

ঢাকা: বাংলাদেশে যেখানে প্রত্যেকদিনই কোনো না (Shishir Monir)কোনো জায়গায় হিন্দু হত্যা বা হিন্দু নির্যাতনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তখনই হিন্দুদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন এক জামাত নেতা। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষা ও মেধার প্রশংসা করে বড় একটি মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা মহম্মদ শিশির মনির।

তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় অন্যতম শিক্ষিত, মেধাবী এবং একাডেমিক্সে অত্যন্ত মনোযোগী। আমি নিজে দেখেছি, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় যারা বেশিরভাগ পাস করেছেন, তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের।” এই বক্তব্য দেশের সামাজিক-শিক্ষাগত অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।শিশির মনিরের এই স্বীকৃতি অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি রাজনৈতিক দলের নেতার পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রশংসা অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে।

   

আরও দেখুনঃ আশ্রয় থেকে অন্নসংস্থান! সেদিন তাড়া খাওয়া হিন্দুদের ত্রাতা ছিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

তিনি বলেন, হিন্দু ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় অসাধারণ মনোযোগী। তারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিয়মিত ভালো ফল করে। প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় তাদের সাফল্যের হার উল্লেখযোগ্য। শিশির মনিরের মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত মেধার পরিচয় নয়, বরং সম্প্রদায় হিসেবে তাদের ঐতিহ্যগত শিক্ষা-সংস্কৃতির ফল।বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা অনুপাতে কম হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের অবদান সবসময়ই উল্লেখযোগ্য।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, উচ্চশিক্ষায় হিন্দু শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি। ডাক্তারি, প্রকৌশল, শিক্ষকতা, প্রশাসনসহ বিভিন্ন পেশায় তারা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। অনেকে মনে করেন, প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকার জন্য হিন্দু পরিবারগুলো শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তাদের সাফল্যের হার বেশি হয়।শিশির মনিরের বক্তব্যের পর দেশের বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

আরও দেখুনঃ বাধা কাটিয়ে ভারতমুখী বাংলাদেশ! ভিসা নিতে হুড়োহুড়ি, কেন এই ভিড়?

অনেক হিন্দু নেতা ও শিক্ষাবিদ এই স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের ইতিবাচক মন্তব্য সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। একইসঙ্গে তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, শিক্ষাগত উৎকর্ষ সত্ত্বেও হিন্দু যুবক-যুবতীরা চাকরি ও সুযোগ-সুবিধায় বৈষম্যের শিকার হন। ভূমি দখল, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক চাপের কারণে অনেক মেধাবী হিন্দু ছেলেমেয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।