‘মৃত্যুর পরোয়া করি না’, ফাঁসির সাজা মাথায় নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার হুংকার হাসিনার

কলকাতা: প্রায় দুই বছর আগে দেশজুড়ে তুমুল গণঅভ্যুত্থানের মুখে পড়ে ঢাকা ছেড়েছিলেন। কিন্তু এবার ভারতের মাটিতে বসে নির্বাসন থেকেই নিজের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে সাহসী ও…

Sheikh Hasina Return to Bangladesh

কলকাতা: প্রায় দুই বছর আগে দেশজুড়ে তুমুল গণঅভ্যুত্থানের মুখে পড়ে ঢাকা ছেড়েছিলেন। কিন্তু এবার ভারতের মাটিতে বসে নির্বাসন থেকেই নিজের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে সাহসী ও বিস্ফোরক ঘোষণাটি করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭৮ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।” শুধু তাই নয়, নিজের দেশে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ এবং একাধিক ফৌজদারি মামলা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের শেষেই তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই সমস্ত আইনি পদক্ষেপ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কোনো ষড়যন্ত্রই তাঁকে দেশে ফেরা থেকে আটকাতে পারবে না। (Sheikh Hasina Return to Bangladesh)

ফাঁসির সাজা ও আইনি জটিলতা

২০২৪ সালের অগস্ট মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ যখন গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন বাধ্য হয়েই ইস্তফা দিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তাঁর দেশ ছাড়ার পরেই ছাত্র-জনতা হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু হয়। গত বছর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলনে হত্যার দায়ভার তাঁর ওপর চাপিয়ে তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। এছাড়া দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক একাধিক মামলাও ঝুলছে তাঁর নামে। তবে হাসিনা এই সমস্ত বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং আওয়ামি লিগের নেতৃত্বকে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত বলে খারিজ করে দিয়েছেন।

   

বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তারেক রহমানের উত্থান

২০২৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বিপুল জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আর দীর্ঘ কয়েক বছরের নির্বাসন কাটিয়ে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। এর ফলে অবসান ঘটে আওয়ামি লিগের টানা ১৭ বছরের রাজনৈতিক আধিপত্যের। বর্তমানে হাসিনাবিহীন আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কার্যকলাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে এবং দলটি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশে ফিরলে কী পরিণতি হতে পারে?

শেখ হাসিনা যদি সত্যিই দেশে ফেরেন, তবে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তিনি কি বিমানবন্দর থেকে সোজা নিজের বাড়িতে যেতে পারবেন, নাকি তাঁকে সরাসরি জেলে পাঠানো হবে? বর্তমান আইনি পরিস্থিতি অনুযায়ী, তিনি দেশের মাটিতে পা রাখামাত্রই তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। বিএনপির কাছে এই গ্রেফতারি হবে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের শহিদদের প্রতি ন্যায়বিচার। অন্যদিকে, আওয়ামি লিগের কাছে এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই পরিগণিত হবে। তাঁর আইনি দল অবশ্য ইতিমধ্যেই এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শুধুই রাজনৈতিক চমক নাকি বাস্তব?

নির্বাসিত রাজনৈতিক নেতারা অনেক সময় নিজেদের দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে দেশে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। শেখ হাসিনাও কি সেই পথেই হাঁটছেন, নাকি সত্যিই ফেরার নীল নকশা তৈরি করে ফেলেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে তাঁর এই ফেরা শুধু বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা বিচারব্যবস্থার জন্যই পরীক্ষা নয়, এটি ভারতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত দুই বছর ধরে হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে নয়াদিল্লি, ফলে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।