আওয়ামীর নির্দেশেই কি খুন ওসমান হাদি? পুলিশি চার্জশিটে কাঠগড়ায় দলের যুব সংগঠন

ঢাকা: ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল গভীর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, যার নির্দেশ এসেছিল নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন ‘যুবলীগ’ থেকে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া ...

By Moumita Biswas

Published:

Updated:

Follow Us

ঢাকা: ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল গভীর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, যার নির্দেশ এসেছিল নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন ‘যুবলীগ’ থেকে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া চার্জশিটে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। ১৭ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা এই চার্জশিটে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নাম উঠে এসেছে।

তদন্তে কী উঠে এল?

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (DB) প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাওয়া হাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং জনসভায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করতেন। এই খোলামেলা বক্তব্যই তাকে ক্ষমতাসীন দলটির ক্যাডারদের টার্গেটে পরিণত করেছিল। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, বাপ্পির নির্দেশে হাদিকে গুলি করে হত্যা করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ। এই মিশনে তাকে সহায়তা করেছিল আদাবর থানা যুবলীগের সদস্য আলমগীর।

   

ষড়যন্ত্র ও পালানোর চেষ্টা Osman Hadi murder chargesheet

পুলিশের দাবি, বাপ্পি কেবল এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাই করেনি, বরং মূল খুনি ফয়সালকে ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে এবং পরবর্তীতে নিজেও সীমান্ত পাড়ি দেয়। যদিও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) বাপ্পির ভারতে অনুপ্রবেশের দাবিটি ইতিমধ্যেই অস্বীকার করেছে। বর্তমানে চার্জশিটভুক্ত ১৭ জন আসামির মধ্যে ১১ জন পুলিশি হেফাজতে থাকলেও বাপ্পিসহ বাকি ৬ জন পলাতক রয়েছে।

চার্জশিট প্রত্যাখ্যান ইনকিলাব মঞ্চের

এদিকে শরিফ ওসমান হাদির রাজনৈতিক দল ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ পুলিশের এই চার্জশিট সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দলের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের মতে, এই হত্যাকাণ্ড কেবল ১৭ জনের কাজ নয়, বরং এর পেছনে রাষ্ট্রযন্ত্রের বড় কোনো নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল। তিনি বলেন, “সরকার দাবি করছে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নির্দেশে ফয়সাল গুলি করেছে, যা পাগলও বিশ্বাস করবে না। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য আড়াল করতে একটি দায়সারা চার্জশিট দেওয়া হয়েছে যা আমাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য।”

হাদি হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে যে নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তার রেশ ধরে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং দীপু চন্দ্র দাসের মতো সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। পুলিশের এই সাম্প্রতিক চার্জশিট নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google