দেশে চালু হবে কুরআনের শাসন! জামাতের হুঙ্কারে বাড়ছে উদ্বেগ

ঢাকা: বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা যখন (Bangladesh)জমে উঠেছে, তখন বরগুনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া এক বক্তব্য সারাদেশে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
jamaat-quran-based-rule-bangladesh-election

ঢাকা: বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা যখন (Bangladesh)জমে উঠেছে, তখন বরগুনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া এক বক্তব্য সারাদেশে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জামায়াত নেতা আফজাল হোসেনের ওই বক্তব্যে সংসদ থেকে ‘অবিশ্বাসী’ বা ‘বিধর্মী’দের বাদ দেওয়ার দাবি, সংবিধান প্রত্যাখ্যান করে কুরআনভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান এবং কুরআনের শাস্তির কথা উল্লেখ করে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

   

বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ওই জনসভায় আফজাল হোসেন সরাসরি বলেন, “এই দেশে ৮০ ভাগ মানুষ মুসলমান। এখানে কোনো বিধর্মী বা অশোভনীয় প্রতিনিধি সংসদে থাকতে পারে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “সংসদে অবিশ্বাসী কেউ ঢুকতে পারবে না। কোনো সংবিধান থাকবে না। শাসন হবে আল্লাহর কুরআন অনুযায়ী।”

ফের বাংলাদেশে ঘুমন্ত অবস্থায় হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে খুন

তিনি জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আপনারা কি কুরআন চান, না বিচ্যুতি চান?” এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। অনেকে এটিকে সরাসরি সংখ্যালঘুবিরোধী উসকানি হিসেবে দেখছেন।এদিকে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে প্রায় ৪০ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।

এর মধ্যে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। কিন্তু জামায়াতের এমন বক্তব্যের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধান যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সব নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলে, সেখানে এ ধরনের বক্তব্য সরাসরি সাংবিধানিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যায়।

জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক শাসনব্যবস্থার পক্ষে কথা বলে আসছে। দলটির নেতারা প্রায়ই বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে ইসলামী আইনের ভিত্তিতে চলা উচিত। আফজাল হোসেনও তার বক্তব্যে চুরির শাস্তি হিসেবে হাত কাটার মতো কুরআনের বিধান উল্লেখ করে দাবি করেন, এমন শাস্তি চালু হলে অপরাধ শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের কথা শুধু সংখ্যালঘুদেরই নয়, নারী, সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী ও আধুনিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষদের অধিকারকেও হুমকির মুখে ফেলে।এই ঘটনার পর বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক দল নিন্দা জানিয়েছে। কেউ কেউ নির্বাচন কমিশনের কাছে আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখছেন, “এটা শুধু একজন প্রার্থীর কথা নয়, এটা একটা মতাদর্শের প্রকাশ।” আবার জামায়াত সমর্থকরা দাবি করছেন, এটা ধর্মীয় অনুভূতির কথা, যা গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে।বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোর প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের বক্তব্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকতে এমন বিতর্ক দেশের সামাজিক সম্প্রীতির ওপর প্রশ্ন তুলেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চান, কিন্তু এ ধরনের উসকানিমূলক কথা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়াচ্ছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google