ঢাকা: বাংলাদেশের সংসদে ফের বিতর্কে (Jamaat MPs)। রাষ্ট্রপতির ভাষণের অধিবেশন শুরুর আগে যখন জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ বাজতে শুরু করল, তখন জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্য প্রথমে উঠেই দাঁড়ালেন না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত এই গান, যা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল এবং পরে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদে এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যম থেকে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অনেকে আসনে বসে ছিলেন, পরে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর হাতের ইশারায় তারা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান।জামায়াত নেতাদের এই বিলম্বকে রাজনৈতিক মহলের অনেকে ইচ্ছাকৃত অসম্মান বলে মনে করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে বলা হয়েছে, “ইসলামিস্টরা নিজেদের মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকেও ঘৃণা করে। তারা কাফিরের রচিত গান ঘৃণা করে। তারা সঙ্গীতকেই ঘৃণা করে।”
আরও দেখুনঃ এলপিজি সঙ্কটে নজরদারি বাড়ল রাজ্যে, বড় উদ্যোগ নবান্নের
এই মন্তব্যগুলো জামায়াতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানপন্থী অবস্থান নিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭১-এর পরও তারা রবীন্দ্রসঙ্গীত ও ঠাকুরের রচনাকে ‘হিন্দু প্রভাবিত’ বলে সমালোচনা করেছে। সম্প্রতি জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নেতা জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। আব্দুল্লাহিল আমান আজমি, যিনি প্রয়াত জামায়াত আমির গোলাম আজমের ছেলে, বলেছেন যে এই গান স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এটি বঙ্গভঙ্গের সময়ের, দুই বাংলাকে এক করার জন্য রচিত স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য নয়। তিনি দাবি করেছেন, ১৯৭১-এ ভারত এটি চাপিয়ে দিয়েছে।এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেকে মনে করছেন, জামায়াতের এই আচরণ তাদের মৌলবাদী চিন্তাধারার প্রতিফলন। তারা সঙ্গীতকে ইসলাম-বিরোধী মনে করে, বিশেষ করে নারী কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত বা জাতীয় সঙ্গীত।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের উপর দাঁড়িয়ে, সেখানে জামায়াতের মতো দলগুলোকে অনেকে হুমকি হিসেবে দেখে। স্বাধীনতার পর জামায়াত নিষিদ্ধ হয়েছিল, পরে আবার উঠে এসেছে। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাদের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক চলছে।অন্যদিকে জামায়াতের সমর্থকরা বলছেন, এটা কোনও ইচ্ছাকৃত অসম্মান নয়।
সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটি ছিল, প্রতিবাদের মধ্যে তারা বুঝতে পারেননি যে জাতীয় সঙ্গীত শুরু হয়েছে। হাসনাত আব্দুল্লাহর ইশারায় তারা দাঁড়িয়েছেন। তারা দাবি করেন, জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান করেন, কিন্তু গানের পিছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।এই ঘটনা বাংলাদেশের সমাজে গভীর বিভাজনকে তুলে ধরেছে। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ রক্ষা করতে চাওয়া মানুষ, অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া গোষ্ঠী।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ শুধু গান নয়, বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এর প্রতি অসম্মানকে অনেকে দেশদ্রোহিতার সমান মনে করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজারো মন্তব্য এসেছে কেউ বলছেন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা দরকার, কেউ বলছেন এটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।



