ঢাকা: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে (Hindu families)ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় মিডিয়া সূত্রে খবর, এখানকার অনেক হিন্দু পরিবার ভারতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একজন হিন্দু নারীর কথায়, মাসে ৫ হাজার টাকারও কম আয় করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, তার ওপর নির্বাচনের পর নারীদের বোরখা পরতে বাধ্য করার ভয় ছড়িয়েছে।
অনেকে জমি-জায়গা বিক্রি করে পরিবার নিয়ে ভারতে পাড়ি দিতে চান। এক নারী বলছেন, তাঁর ভাই ইতিমধ্যে ভারতে চলে গেছেন। সেখানে গেলে শান্তিতে বাঁচা যাবে বলে তাঁর বিশ্বাস।এই অঞ্চলের বেশিরভাগ হিন্দু কোচ রাজবংশী সম্প্রদায়ের, তবে উচ্চবর্ণের হিন্দু ও আদিবাসী গোষ্ঠীরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যা রয়েছে।
আরও দেখুন: মহিলা ভোটারদের লক্ষ্য করে বাজেটে চমক, কি ফল দেবে ভোট বাক্সে? ইঙ্গিত মিলল সমীক্ষায়
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা, লুটপাট, মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে একসময় ৭০০-৮০০ জন হিন্দু সীমান্তে জড়ো হয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তার আশ্বাসে ফিরে আসেন। রংপুর বিভাগে হিন্দু জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি প্রায় ১৩ শতাংশের কাছাকাছি কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় আতঙ্ক গভীর হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত। হিন্দু নারীরা বলছেন, নির্বাচনের পর ইসলামী গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়লে নারীদের স্বাধীনতা কমে যাবে, বোরখা পরা বাধ্যতামূলক হয়ে উঠতে পারে। অর্থনৈতিক অবস্থাও খারাপ কম আয়, চাকরির অভাব, জমি-জায়গা নিয়ে চাপ। অনেক পরিবার ভাবছেন, জমি বিক্রি করে ভারতে গিয়ে নতুন করে শুরু করাই ভালো।
একজন বললেন, “ভারতে গেলে শান্তিতে থাকা যাবে, এখানে সবসময় ভয়।”এই পরিস্থিতি নিয়ে ভারতেও উদ্বেগ বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গে যদি তৃণমূল কংগ্রেস আরও দু’টি মেয়াদ ক্ষমতায় থাকে, তাহলে অনুরূপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে ১৯৪০-এর দশকে ২৮ শতাংশ থেকে এখন ৯ শতাংশের নীচে।
রংপুর, খুলনা, সিলেটের মতো সীমান্তবর্তী বিভাগে হিন্দুরা তুলনামূলক বেশি, কিন্তু সেখানেও নিরাপত্তাহীনতা।স্থানীয় হিন্দু নেতারা বলছেন, হামলাগুলো প্রায়ই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা জমি দখলের সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত বলে হিন্দুদের লক্ষ্য করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ২০২৫ সালে ৬৪৫টি সংখ্যালঘু-সংক্রান্ত ঘটনা রেকর্ড হয়েছে, যার বেশিরভাগকে অ-সাম্প্রদায়িক বলে দাবি করা হলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় কমেনি।
কয়েকটি হত্যা, বাড়ি পোড়ানো, মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা সামনে এসেছে।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে অনেক পরিবার অপেক্ষা করছেন না। তারা জমি বিক্রির চেষ্টা করছেন, আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন ভারতের দিকে। একজন নারী বললেন, “এখানে থেকে আর কী লাভ? শান্তি চাই, সেটা ভারতে পাওয়া যাবে।”




















