বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (Hasnat Abdullah) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি বিতর্কিত মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ভোট দিলে ‘মারাত্মক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বা ‘বাঁচতে দেব না’।
এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য নির্বাচনের আগের রাতে ছড়িয়ে পড়ায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।হাসনাত আব্দুল্লাহ, যিনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন এবং পরে এনসিপি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়ে আলোচিত হয়েছেন।
আরও দেখুন: মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত ভিডিও পোস্ট! মিডিয়া কো–কনভেনরকে তাড়াল বিজেপি
তিনি বলেছিলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারকে সম্মান না করে, তাহলে বাংলাদেশও ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেবে এবং ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করবে। এই মন্তব্যের পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এটাকে ‘অদূরদর্শী’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে নিন্দা করেছেন।এখন নির্বাচনের ঠিক আগে হাসনাতের নতুন হুমকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বা রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় (কুমিল্লা-৪ বা অন্য কোনো আসনে) হিন্দু ভোটারদের উদ্দেশে বলেছেন যে, তার বিরুদ্ধে ভোট দিলে ‘মৃত্যুর মুখোমুখি’ হতে হবে বা ‘বাঁচার সুযোগ পাবে না’।
এই বক্তব্যকে অনেকে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা বলে দেখছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বেড়েছে, এখন এমন হুমকি আরও নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।এনসিপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, কিন্তু হাসনাতের অতীত বক্তব্যগুলো দেখে মনে হয় তিনি প্রায়ই উগ্র ভাষা ব্যবহার করেন।
তিনি নির্বাচনে কালো টাকা বা ঘুষের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, ভোটারদের সচেতন থাকতে বলেছেন, কিন্তু এই ধরনের হুমকি তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিরোধী দলগুলো এটাকে ‘ভোটার দমন’ এবং ‘সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর’ চেষ্টা বলে নিন্দা করেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়েরের দাবি উঠেছে।




















