ঢাকা: বাংলাদেশের ধামরাইয়ে শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী (Dhamrai)যশোমাধবের রথযাত্রা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কিছু মুসলিম প্রতিনিধি সরকারের কাছে একটি চিঠি দিয়ে জাত্রাবাড়ি হিন্দু মন্দিরের মাঠে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা বন্ধ করা এবং অস্থায়ী জগন্নাথ দেবের মূর্তি নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দেশে কি হিন্দুরা তাদের ধর্মীয় উৎসবও পালন করতে পারবেন না?ধামরাই রথযাত্রা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রথযাত্রা হিসেবে পরিচিত। পুরীর রথযাত্রার পরেই এর স্থান। চারশো বছরেরও বেশি পুরনো এই উৎসবে প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত অংশ নেন। বিশাল রথে যশোমাধব, বলরাম, সুভদ্রা ও অন্যান্য দেব-দেবীর মূর্তি স্থাপন করে শোভাযাত্রা বের হয়।
আরও দেখুনঃ বাধা কাটিয়ে ভারতমুখী বাংলাদেশ! ভিসা নিতে হুড়োহুড়ি, কেন এই ভিড়?
মাসব্যাপী মেলা বসে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ আসেন। এটি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, সাংস্কৃতিক মিলনমেলাও। অনেক মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও এতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন।কিন্তু সাম্প্রতিক চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, জাত্রাবাড়ির মাঠে রথযাত্রা ও অস্থায়ী মূর্তি নির্মাণ স্থানীয় পরিবেশ ও সম্প্রীতির জন্য সমস্যা তৈরি করছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই এলাকায় অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে উৎসবটি অন্যত্র স্থানান্তর করা উচিত। এই দাবির পর হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, “শত শত বছর ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী উৎসব বন্ধ করার দাবি অযৌক্তিক। এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ।”
ধামরাইয়ের হিন্দু নেতারা জানিয়েছেন, রথযাত্রা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। কোনো ধরনের উসকানি বা সংঘাতের ঘটনা ঐতিহাসিকভাবে খুব কম। বরং এই উৎসব স্থানীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখে। মেলায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা হয়। তাঁরা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যাতে ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অনুমতি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মন্দিরে হামলা, জমি দখল ও উৎসবে বাধার অভিযোগ ওঠে। এই চিঠির ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, “যদি রথযাত্রার মতো প্রাচীন উৎসবও বন্ধ করতে হয়, তাহলে হিন্দুদের সাংস্কৃতিক অস্তিত্বই সংকটে পড়বে।” অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করা হবে।





