মায়ানমার যুদ্ধে বন্দি মহিলাদের সেনাদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার বার্তা বাংলাদেশি মৌলবীর

বাংলাদেশের একজন মৌলবীর বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। (Bangladeshi cleric)সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়া একটি ভিডিওতে একজন বাংলাদেশি ধর্মীয় বক্তা মায়ানমারের বিরুদ্ধে…

bangladeshi-cleric-controversy-myanmar-war-women-distribution

বাংলাদেশের একজন মৌলবীর বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। (Bangladeshi cleric)সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়া একটি ভিডিওতে একজন বাংলাদেশি ধর্মীয় বক্তা মায়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বন্দি নারীদের সেনাদের মধ্যে বিতরণ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যদি বাংলাদেশ মায়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তাহলে যে নারীদের আমরা বন্দি করব, তাদের আমাদের সেনাদের মধ্যে বিলিয়ে দেব।

   

ধরুন আমরা ৫০টি মেয়ে পেলাম, আমি ১০টি রাখব। বাকিগুলো আমাদের সেনাদের কাছে বিক্রি করে দেব। ইসলাম কাফির মেয়েদের যুদ্ধবন্দি হিসেবে যৌনদাসী হিসেবে গ্রহণ করার অনুমতি দেয়। তারা অপমানের যোগ্য।”এই বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের প্ররোচনা বলে অভিহিত করেছেন।

আরও দেখুনঃ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, ভারত-উজবেকিস্তান সামরিক মহড়া শুরু

ভিডিওতে ওই মৌলবী স্পষ্টভাবে ইসলামী শরিয়াহর উল্লেখ করে বলেন যে, অমুসলিম নারীদের যুদ্ধে বন্দি করার পর তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা যায়। কিন্তু এ ধরনের বক্তব্য আধুনিক বিশ্বের আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সচেতন মানুষেরা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন সাধারণ নাগরিক বলেন, “একজন ধর্মীয় নেতা হয়ে কীভাবে এমন অমানবিক কথা বলতে পারেন?

যুদ্ধ মানে তো শুধু সেনাদের লড়াই নয়, সেখানে নারী-শিশু-সাধারণ মানুষের জীবনও জড়িত। তাদেরকে যৌনদাসী বানানোর কথা বলা কোনো ধর্মের শিক্ষা হতে পারে না।” অনেকে মনে করেন, এই বক্তব্য শুধু মায়ানমারের নারীদের নয়, বরং সব নারীর মর্যাদাকে অপমান করে।প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। ২০১৭ সাল থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম মায়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

সেই সময় রোহিঙ্গা নারীদের উপর যৌন নির্যাতনের অসংখ্য অভিযোগ উঠেছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ ও জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ এনেছে। এখন যদি কোনো বাংলাদেশি ধর্মীয় ব্যক্তি একই ধরনের অমানবিক আচরণের কথা বলেন, তাহলে তা শুধু প্রতিশোধের আহ্বান নয়, বরং সভ্যতার পিছনে ফিরে যাওয়ার ডাক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহল।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যুদ্ধের সময় নারীদের যৌন নির্যাতন যুদ্ধাপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। জেনেভা কনভেনশন ও রোম স্ট্যাটিউট স্পষ্টভাবে এ ধরনের কাজকে নিষিদ্ধ করেছে। কোনো ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে এই আইনকে অস্বীকার করা যায় না। বাংলাদেশের সরকার ও ধর্মীয় নেতৃত্বের উচিত এমন উগ্র বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করা এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। কারণ এ ধরনের কথা শুধু সাম্প্রদায়িক বিভেদ বাড়ায় না, বরং দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করে।