ঢাকা: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের ছায়া ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে (Bangladesh election)। নির্বাচনের আগের দিন রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যাচ্ছে, ভোট দেওয়ার আগ্রহ থাকলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা কম নয়। অনেকেই বলছেন, সবকিছু নির্ভর করছে ভোটের দিন কেন্দ্রে কেমন পরিবেশ থাকে তার ওপর। ঢাকা–১৮ আসনের ভোটার বিলকিস আক্তার বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ভোট তো দিতেই চাই। কিন্তু শেষপর্যন্ত কেন্দ্রে যাওয়া হবে কি-না, সেটা নির্ভর করছে কালকের পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর।” তাঁর এই বক্তব্যে অনেক সাধারণ ভোটারের মনোভাবই যেন ফুটে উঠেছে।
এই আসনের ২১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮৯টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুধু ঢাকা–১৮ নয়, গোটা ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পুলিশের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী ৭৫ শতাংশেরও বেশি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। আর দেশজুড়ে সব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের হার ৪০ শতাংশের বেশি।
এই পরিসংখ্যানই ভোটারদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কায় অনেকেই ভোটের দিন ঘর থেকে বের হওয়া নিয়ে দ্বিধায় আছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরে পুলিশ বাহিনী পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। নানা কাঠামোগত পরিবর্তন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং জনবল সংকটের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। সেই সতর্কতার প্রতিফলন এখন ভোটারদের মনোভাবেও দেখা যাচ্ছে।
তবে নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি সামাল দিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবার রেকর্ড সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকবেন। সেনা, পুলিশ, র্যাব ও আনসার মিলিয়ে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেকর্ড সংখ্যক সদস্যকে আমরা মাঠে রেখেছি। সেইসঙ্গে, কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পুলিশের কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকছে, যা আগে কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি। কাজেই ভোটারদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।”
কমিশনের দাবি, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি কার্যক্রম নজরদারির আওতায় আনা হবে। কোথাও অনিয়ম বা সহিংসতার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তবে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সেই আশ্বাস কতটা আস্থা তৈরি করতে পারবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। অনেকেই বলছেন, শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতি দেখে তবেই তারা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, সুষ্ঠু পরিবেশের নিশ্চয়তা দেওয়াও জরুরি। কারণ ভোটাররা যদি নিরাপদ বোধ না করেন, তবে ভোটের হার কমে যেতে পারে, যা পুরো নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমন উত্তপ্ত, তেমনি সাধারণ মানুষের মনেও আছে আশঙ্কা ও প্রত্যাশার মিশ্র অনুভূতি। এখন নজর সবার ভোটের দিনের দিকে সেই দিনটাই নির্ধারণ করবে, উদ্বেগ কাটিয়ে মানুষ কতটা নিশ্চিন্তে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।




















