ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন বাংলাদেশে। এই আবহেই আরও একবার আতঙ্কের সুর শোনা গেল সংখ্যালঘু হিন্দুদের গলায় (Bangladesh election)। বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ঘটনা। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এটি প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে এই নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে একটি জাতীয় গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সাংবিধানিক সংস্কারের প্যাকেজ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়া হবে। প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লক্ষ ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেবেন, এবং ভোটগ্রহণ হবে সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত।এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও দেখুন: গালফ কাউন্সিলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে আরও একধাপ এগিয়ে ভারত
কিছু সামাজিক মাধ্যমে এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া খবর অনুসারে, নির্বাচনের পরের দিন অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার থেকে হিন্দু ও অন্যান্য অমুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একটি ‘গণহত্যা তরঙ্গ’ শুরু হতে পারে। দাবি করা হচ্ছে যে জুম্মার নামাজের পর জিহাদি মব রাস্তায় নেমে অমুসলিমদের লক্ষ্য করে হামলা চালাবে, এবং এটিকে ‘পাথর ছোড়ার দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন গ্রামে-শহরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।বাস্তবে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শুরু করে ২০২৫-২০২৬ সাল পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ (বিএইচবিসিইউসি) এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, এই সময়ে শতাধিক হত্যা, মন্দির-ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৬-এর শুরুতে এই হিংসা আরও তীব্র হয়েছে বলে অভিযোগ। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের রাউজানে একটি ব্যানারে ২ লক্ষ হিন্দু-বৌদ্ধকে হত্যার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে।অন্যদিকে, এই দাবিগুলোকে অনেকে অতিরঞ্জিত বা বিভ্রান্তিকর বলে মনে করছেন।
আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা যেমন বাংলাফ্যাক্ট এবং সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ অর্গানাইজড হেট জানিয়েছে যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হিন্দু গণহত্যা’ নিয়ে সমন্বিতভাবে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে, বিশেষ করে ভারত থেকে। ২০২৪-২০২৬ সালের মধ্যে লক্ষাধিক পোস্টে এই ধরনের দাবি করা হয়েছে, যা প্রায়শই অতিরঞ্জিত বা অসত্য। বাংলাদেশ সরকার ও অন্তর্বর্তী প্রশাসন এই হিংসার ঘটনাগুলোকে স্বীকার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলেছে, কিন্তু সমালোচকরা বলছেন যে দোষীদের বিচার না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্কতা জারি করেছে যে রাজনৈতিক হিংসা বা চরমপন্থী হামলা হতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনী সভা, ভোটকেন্দ্র বা ধর্মীয় স্থানে। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ এবং ১১-১২ তারিখে সব ধরনের যানবাহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রধান দলগুলো বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় রাজনৈতিক পরিসর সীমিত।




















