নয়াদিল্লি: অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার (Bangladesh)। বিদেশ মন্ত্রণালয় (MEA) জানিয়েছে, দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর আগে জাতীয়তা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের কাছে ২,৬৮০টিরও বেশি মামলা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে অনেকগুলো ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে রয়েছে।
এই পরিস্থিতি সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।সরকারের উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো অবৈধ বিদেশি নাগরিককে আইন অনুসারে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা দীর্ঘদিনের। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা জাল কাগজপত্র তৈরি করে চাকরি, রেশন, ভোটার কার্ড সবকিছুতে অনুপ্রবেশ করছেন।
ফলে স্থানীয়দের জীবিকা ও নিরাপত্তা দুটোই হুমকির মুখে পড়ছে।বা বিদেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের জাতীয়তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু ২,৬৮০টি মামলার মধ্যে বেশ কয়েকটির যাচাই প্রক্রিয়া পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
আরও দেখুনঃ পানিট্যাংকি সীমান্তে জাল নথি নিয়ে ভারত থেকে পালতে গিয়ে আটক ২ থাই মহিলা
কর্মকর্তারা বলছেন, “যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ক্রমাগত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হওয়ায় অনেকে এখনও আটকে রয়েছেন।”পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক অভিযানে প্রতিদিন ৭০-৮০ জনকে ফেরত পাঠানোর খবর আসছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন হোল্ডিং সেন্টার খুলেছে। যাঁদের জাল রেশন কার্ড ও আধার কার্ড রয়েছে, তাঁদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে।
কিন্তু যাচাইয়ের অপেক্ষায় আটকে থাকা হাজারো মামলা পুরো প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন। মালদা ও মুর্শিদাবাদের অনেকেই বলছেন, “দীর্ঘদিন ধরে দেখছি, জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। চাকরি, জমি, হাসপাতাল সবকিছুতে প্রতিযোগিতা। সরকার এবার কঠোর হচ্ছে, এটা ভালো।” তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যাচাই প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ হয় এবং কোনো নিরপরাধ ভারতীয় নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে নজর রাখতে হবে।




















