India Sports: অচেনা আয়ুষের চমক, এশিয়ান ব্যাডমিন্টন ফাইনালে ভারতের নতুন তারকা

ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে নতুন এক চমকের নাম এখন আয়ুষ শেঠি। দেশের তারকা শাটলার পিভি সিন্ধু, লক্ষ্য সেন বা এইচএস প্রণয়ের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা যেখানে এশিয়ান ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বেশি দূর এগোতে পারেননি,

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
ayush-shetty-asian-badminton-final-india-rising-star

ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে নতুন এক চমকের নাম এখন আয়ুষ শেঠি। দেশের তারকা শাটলার পিভি সিন্ধু, লক্ষ্য সেন বা এইচএস প্রণয়ের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা যেখানে এশিয়ান ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বেশি দূর এগোতে পারেননি, সেখানে নিঃশব্দে ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে চলেছেন ম্যাঙ্গালুরুর ২০ বছরের এই তরুণ। চিনের নিংবো শহরে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন পুরুষদের সিঙ্গলসের ফাইনালে।প্রতিযোগিতার শুরুতে আয়ুষকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা ছিল না।

দেশের বড় তারকারা দ্রুত বিদায় নেওয়ায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন ভারতের অভিযান প্রায় শেষ। এমনকি দলের ফিজিয়োও দেশে ফেরার টিকিট কেটে ফেলেছিলেন। কিন্তু আয়ুষের দুরন্ত পারফরম্যান্সে পুরো চিত্রটাই বদলে যায়। তাঁর সাফল্যে এতটাই চমক তৈরি হয়েছে যে, স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার নির্দেশে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে আনা হয় দলের ফিজিয়োকে, যাতে ফাইনালের আগে আয়ুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যায়।

   

শনিবার সেমিফাইনালে আয়ুষের সামনে ছিল কঠিন পরীক্ষা। প্রতিপক্ষ ছিলেন থাইল্যান্ডের কুনলাভাত ভিতিদসার্ন, যিনি বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় এবং টুর্নামেন্টের শীর্ষ বাছাই। প্রথম গেমে আয়ুষ ১০-২১ ব্যবধানে হেরে যান। অনেকেই তখন ভেবেছিলেন ম্যাচ একপেশে হয়ে যাবে। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর লড়াই। দ্বিতীয় গেমে অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে ২১-১৯ জেতেন তিনি। যদিও একসময় ২০-১৪ এগিয়ে থেকেও চাপের মুখে পড়েছিলেন, কারণ কুনলাভাত পরপর পয়েন্ট তুলে ব্যবধান কমিয়ে দেন।

তবু স্নায়ুর জোর ধরে রেখে গেমটি জিতে নেন ভারতীয় তরুণ। তৃতীয় ও নির্ধারক গেমে আয়ুষ আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। দুর্দান্ত রক্ষণ, নিখুঁত স্ম্যাশ এবং কোর্ট কভারেজের মাধ্যমে তিনি প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ২১-১৭ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেন। বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়কে হারিয়ে এই জয় নিঃসন্দেহে তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

ভারতীয় দলের প্রধান কোচ বিমল কুমার জানিয়েছেন, আয়ুষ ম্যাচের পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে সামলেছে। বিশেষ করে নিজের ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে কুনলাভাতের আক্রমণ আটকে দিয়েছে। লম্বা গড়নের কারণে আয়ুষের রিচ অনেক বেশি, যা প্রতিপক্ষের স্ম্যাশ ফেরাতে এবং দ্রুত রিটার্ন দিতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কুনলাভাতকে নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক খেলায় ফিরতে দেননি। এবার ফাইনালে আয়ুষের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিপক্ষ চিনের শি ইউকি, যিনি বর্তমানে বিশ্বের দুই নম্বর এবং অলিম্পিক সোনাজয়ী তারকা।

নিজের দেশের সমর্থকদের সামনে তিনি নামবেন প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে। তবে আয়ুষ ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন, র‌্যাঙ্কিং নয়, কোর্টে লড়াইটাই শেষ কথা। ১৯৬৫ সালে দীনেশ খান্না এই প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে সোনা জিতেছিলেন। এরপর দীর্ঘ ৬০ বছরে খুব কমবারই ভারত এই সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এবার সেই ইতিহাস ছোঁয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আয়ুষ শেঠি। রবিবারের ফাইনালে তিনি জিততে পারলে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google