ব্যারাকপুর: বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব চলাকালীন বিতর্ক তৈরী হল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। (Ashok Chatterjee)নৈহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায়কে নৈহাটি পুলিশ স্টেশনের অফিসিয়াল গাড়ি থেকে নেমে ব্যারাকপুরের এসডিও অফিসে ঢুকতে দেখা গেছে বলে দাবি করেছে বিজেপি নেতারা।
নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং তার এক্স হ্যান্ডেলে এই ঘটনা পোস্ট করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছেন। সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে তিনি নৈহাটি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন।ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচনী আচরণবিধি চলাকালীন একজন তৃণমূল নেতা কেন পুলিশের অফিসিয়াল গাড়ি ব্যবহার করলেন? বিশেষ করে যখন নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) বারবার বলছে যে, পুলিশকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নির্লিপ্ত থাকতে হবে। অশোক চট্টোপাধ্যায় নৈহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সক্রিয় রাজনীতি করেন। সোমবার তিনি নৈহাটি থানার একটি সরকারি গাড়িতে করে ব্যারাকপুরের এসডিও অফিসে পৌঁছান।
আরও দেখুনঃ মনোনয়ন জমা দিতে পুলিশের গাড়ি ব্যবহার তৃণমূলের! বিপাকে নৈহাটির চেয়ারম্যান
গাড়িটি ব্যারাকপুর সিটি পুলিশের অধীন নৈহাটি পুলিশ স্টেশনের ব্যবহৃত গাড়ি বলে জানা গেছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।এই ঘটনা নিয়ে বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, এটি স্পষ্টতই পুলিশের অপব্যবহার এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি পুলিশের পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ।
একজন সাধারণ নেতা যদি পুলিশের গাড়ি ব্যবহার করে নির্বাচনী কাজে অংশ নিতে পারেন, তাহলে নিরপেক্ষ প্রশাসনের কথা কোথায় থাকে? সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে স্পষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন খুব চেষ্টা করছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাতে, কিন্তু “অভ্যাস তো অভ্যাস”। পোস্টে বলা হয়েছে, “এনআইএসভিপ (ইসিআই) খুব চেষ্টা করছে যাতে রাজ্যের পুলিশ
নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, কিন্তু অভ্যাস যায় না।”
অশোক চট্টোপাধ্যায়কে পুলিশের গাড়ি থেকে নামতে অর্জুন সিং ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন।তিনি নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন তৃণমূল নেতাদের দ্বারা পুলিশের গাড়ির অপব্যবহার বন্ধ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এই ঘটনা বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচিত।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে বিরোধী দলগুলো দাবি করছে যে, এ ধরনের ঘটনা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী যেন সরকারি যানবাহন ব্যবহার না করেন, বিশেষ করে মনোনয়ন বা প্রচারের সময়।




















