চতুর্মুকুট জয়ের স্বপ্ন দেখছিল যে দল, সেই আর্সেনালের মরশুম হঠাৎ করেই ধাক্কা খেল। কয়েক দিনের ব্যবধানে দু’টি সম্ভাব্য ট্রফি হাতছাড়া হয়ে গেল মিকেল আর্তেতার দলের। গত সপ্তাহেই লিগ কাপের ফাইনালে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির কাছে হার মানতে হয়েছিল। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই এফএ কাপ (FA Cup) থেকেও বিদায়—তাও আবার এমন এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, যাদের তুলনায় কাগজে-কলমে অনেকটাই এগিয়ে ছিল আর্সেনাল।
শনিবার রাতে এফএ কাপের সেমিফাইনালে প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় ডিভিশনের দল সাউদাম্পটনের কাছে ১–২ গোলে হারল আর্সেনাল। ফলাফল শুধু অপ্রত্যাশিতই নয়, অনেকের চোখে তা লজ্জাজনকও। কারণ দলে গ্যাব্রিয়েল জেসুস, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও কাই হ্যাভার্জ়ের মতো তারকা ফুটবলার থাকা সত্ত্বেও ম্যাচে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি লন্ডনের ক্লাবটি।ম্যাচের শুরু থেকেই সাউদাম্পটন আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে। আর্সেনাল বল দখলে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে ধার কম ছিল। ৩৫ মিনিটে রস স্টুয়ার্টের গোলে এগিয়ে যায় সাউদাম্পটন। গোলটি আর্সেনালের ডিফেন্সের দুর্বলতা স্পষ্ট করে দেয়। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও সফল হয়নি আর্তেতার দল।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় আর্সেনাল। ৬৮ মিনিটে ভিক্টর গায়োকেরেস গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। সমতা ফেরানোর পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে ব্যর্থ হয় আর্সেনাল। মাঝমাঠে সৃজনশীলতার অভাব এবং শেষ তৃতীয়াংশে সিদ্ধান্তহীনতা ভুগিয়েছে দলকে। এই সুযোগটাই কাজে লাগায় সাউদাম্পটন। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে সিয়া চার্লস গোল করে আবার এগিয়ে দেন দলকে। শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর মতো ছন্দ আর খুঁজে পায়নি আর্সেনাল। ফলে পাঁচ বছর পর এফএ কাপের শেষ চারে জায়গা করে নেয় সাউদাম্পটন, আর হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়ে আর্তেতার দল।
পরপর দু’টি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পরও অবশ্য কোচ মিকেল আর্তেতা তাঁর ফুটবলারদের দোষারোপ করতে চাননি। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে দল যেভাবে লড়াই করেছে, তা এই দুই হারের জন্য ম্লান হয়ে যেতে পারে না। তবে একইসঙ্গে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে, দলের প্রত্যেকের নিজেদের ভুল খুঁজে দেখা প্রয়োজন। মরশুমের বাকি অংশে ঘুরে দাঁড়াতে গেলে আত্মসমালোচনা জরুরি বলেই মনে করেন তিনি। এখনও কিন্তু আর্সেনালের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় তারা শীর্ষে এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের থেকে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে। পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠেছে তারা, যেখানে প্রতিপক্ষ স্পোর্টিং লিসবন। অর্থাৎ, মরশুম শেষ হওয়ার আগেই আরও দু’টি বড় ট্রফি জয়ের সুযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে, স্বপ্নের পথ কিছুটা কঠিন হয়ে গেলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এখন দেখার, এই ধাক্কা কাটিয়ে আর্সেনাল কত দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে এবং বাকি প্রতিযোগিতাগুলোতে কতটা দৃঢ়ভাবে লড়াই চালাতে পারে।




















