কলকাতা: ভোটের পারদ চড়তেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা। মঙ্গলবার সকালে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ব্যাপক হামলার মুখে পড়লেন দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম। বাঁশ ও লাঠি দিয়ে তাঁর গাড়িতে রীতিমতো তাণ্ডব চালানো হয়। হামলায় কাঠগড়ায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনার প্রতিবাদে বাসন্তী হাইওয়ে অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন আইএসএফ (ISF) কর্মী-সমর্থকরা।
কী ঘটেছিল এদিন সকালে?
জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকার দেউলি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রচারে গিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। অভিযোগ, প্রচার চলাকালীন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর কনভয়ের ওপর হামলা চালায়। সেই সময় গাড়ির ভেতরেই ছিলেন আরাবুল।
সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়া দৃশ্যে দেখা যায়, কয়েকজন মহিলা-সহ একদল দুষ্কৃতী হাতে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে গাড়ির ওপর চড়াও হয়েছে। হামলায় গাড়ির কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
আরাবুলের প্রচারসঙ্গী আইএসএফ কর্মীদেরও ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তবে কর্মীরাই মানববর্ম তৈরি করে আরাবুলকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।
‘মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল’, বিস্ফোরক আরাবুল Arabul Islam convoy attack
এই ঘটনার পর বাসন্তী হাইওয়ের ঘটকপুকুর চৌমাথা অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে আইএসএফ। অবরোধে যোগ দেন স্বয়ং আরাবুল ইসলাম এবং তাঁর ছেলে হাকিমুল ইসলাম। তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে আরাবুল বলেন, “ওরা ওখানে কাউকে ভোট করতে দেয় না। যাঁরা প্রার্থী হন বা নেতৃত্ব দেন, তাঁদের ওপরই হামলা চালায়। আমাকে মেরে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সবার হাতে মেশিন (আগ্নেয়াস্ত্র) ও তলোয়ার ছিল।”
পালটা তোপ শওকত মোল্লার
হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পালটা আরাবুলকেই বিঁধেছেন ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা। তাঁর কড়া প্রতিক্রিয়া, “নামেই আরাবুল, আসলে সমাজবিরোধী। ওখানে যে নোংরা খেলা খেলতে চাইছে, এর পরিণাম ভয়ঙ্কর হবে। র্যালির নাম করে তিন-চার জন লোককে মারধর করেছে। এটি অত্যন্ত নিন্দাজনক ঘটনা।” ভোটের মুখে ক্যানিংয়ের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধীদের তরজায় এলাকার পরিস্থিতি এই মুহূর্তে থমথমে।




















