ওয়াশিংটন: আমেরিকার ২২টিরও বেশি শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে (Yunus)। হিন্দু সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর চলা হত্যা ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধে তারা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।
আয়োজকরা বলছেন, এটা শুধু প্রতিবাদ নয়, বিশ্বের কাছে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা। লস অ্যাঞ্জেলেসের আর্টেসিয়ায় সবচেয়ে বড় সমাবেশ দেখা গেছে, যেখানে শত শত মানুষ সকালের মিছিলে যোগ দেন। প্রিন্সটন, শিকাগো, বে এরিয়া, ডেট্রয়েট, টাম্পা, বোস্টন, হিউস্টন এমন অনেক শহরে একই ছবি। প্রতিবাদকারীরা বলছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ বেড়েছে। মন্দির ভাঙচুর, বাড়ি-দোকান লুট, হত্যা এসবের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।
কোনও কোনও সংগঠন দাবি করছে, গত বছর থেকে ৩,০০০-এর বেশি আক্রমণ হয়েছে, যার মধ্যে অনেক হত্যাকাণ্ড। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হিন্দু ব্যক্তি খুন হয়েছে কেউ ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লিঞ্চিংয়ের শিকার, কেউ গুলি করে মারা গেছে।প্রতিবাদকারীরা মহম্মদ ইউনুসের সরকারকে সরাসরি দোষারোপ করছেন। তাঁদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বরং কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। একজন বক্তা বলেন, “এটা ধীরে ধীরে গণহত্যা চলছে। নীরবতা শুধু অপরাধীদের উৎসাহিত করে।” আরেকজন যোগ করেন, “আমরা আমেরিকার আইনপ্রণেতাদের কাছে আবেদন করছি এই অত্যাচার বন্ধ করুন, আন্তর্জাতিক চাপ দিন।” ওয়াশিংটনে একটা কংগ্রেশনাল হিয়ারিংয়ের দাবিও উঠেছে ফেব্রুয়ারির শুরুতে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা দীর্ঘদিন ধরে অসুরক্ষিত বোধ করছেন। ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের পর যে অশান্তি শুরু হয়, তাতে অনেক হিন্দু বাড়ি-মন্দির লুটপাটের শিকার হয়। ইউনুস সরকার দাবি করে যে বেশিরভাগ ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয়, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক। কিন্তু ভারতের বিদেশ মন্ত্রকসহ আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে যে সরকার অপরাধীদের শাস্তি দিচ্ছে না।
ভারতে এ নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে, এখন আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছে। হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠনগুলি বলছে, এটা ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন।এই বিক্ষোভে শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, অন্যান্য ধর্মের মানুষও যোগ দিয়েছেন। অনেকে প্রার্থনা সভা করে শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। একটা ভিডিয়োতে দেখা যায়, প্রতিবাদকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন “হিন্দু লাইভস ম্যাটার”, “জেনোসাইড বন্ধ করুন”। আর্টেসিয়ার মিছিলে শতাধিক মানুষ হেঁটেছেন, গান গেয়েছেন। প্রতিবাদকারীদের মতে, বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে এই অশান্তি আরও বাড়তে পারে। তাই এখনই আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ দরকার।




















