নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বিরোধী দলগুলোকে নারী সংরক্ষণ বিল ও ডেলিমিটেশন বিল নিয়ে বিরোধিতা করার জন্য তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন । লোকসভায় বিতর্কের সময় তিনি বলেন, “চুল সাদা হয়ে যাবে, তবু এই দিকে বসতে পারবে না।” তাঁর এই কড়া মন্তব্যে সংসদীয় অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।অমিত শাহ বলেন, নারী সংরক্ষণ বিল (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম) এবং ডেলিমিটেশন বিল ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনবে।
এই বিলগুলোর মাধ্যমে লোকসভা ও বিধানসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিরোধীরা যে দাবি করছে যে ডেলিমিটেশনের ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমবে, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। বরং দক্ষিণের পাঁচটি রাজ্যের আসন সংখ্যা বর্তমান ১২৯ থেকে বেড়ে ১৯৫ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বিরোধী দলগুলো নারীদের ক্ষমতায়নের বিরোধিতা করছে।
আরও দেখুনঃ বুলডোজার অব্যাহত! যোগীরাজ্যে ফের গুঁড়িয়ে গেল ৫০ ফুটের মিনার
তিনি সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণ অসাংবিধানিক। তিনি বলেন, “আপনারা চাইলে সব টিকিট মুসলিম মহিলাদের দিতে পারেন, আমরা আপত্তি করব না। কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়া যাবে না।” অমিত শাহ আরও বলেন, বিরোধীরা যতই বাধা দিক, এই বিলগুলো পাস হয়ে যাবে এবং নারীরা রাজনীতিতে তাদের প্রাপ্য স্থান পাবেন।বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই বিলগুলোকে ‘রাজনৈতিক চাল’ বলে সমালোচনা করছে।
কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি দাবি করেছে, ডেলিমিটেশনের পর দক্ষিণ রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমবে। তারা নারী সংরক্ষণ বিলে ওবিসি ও সংখ্যালঘু মহিলাদের জন্য আলাদা সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে। কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল বলেন, বিলটি তাড়াহুড়ো করে আনা হয়েছে এবং এতে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি।অমিত শাহ এই অভিযোগগুলোকে খারিজ করে বলেন, বিরোধীরা জেনেশুনে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সেন্সাস প্রক্রিয়া চলছে এবং তাতে জাতি-ভিত্তিক গণনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ডেলিমিটেশনের পর নারী সংরক্ষণ কার্যকর হবে ২০২৯ সালের নির্বাচন থেকে। তিনি বলেন, এই সংস্কার ভারতকে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অমিত শাহের এই কড়া ভাষা বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরকারের আক্রমণাত্মক অবস্থানের প্রতিফলন। তাঁর “বাল সফেদ হয়ে যাবে” মন্তব্যটি বিরোধীদের দীর্ঘমেয়াদি বিরোধিতাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এতে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র শব্দযুদ্ধ চলেছে।




















