গুয়াহাটি: অসমের এআইইউডিএফ বিধায়ক আমিনুল ইসলামের (Aminul Islam)বিতর্কিত মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেছেন যে মুসলিমরা বন্দে মাতরম গাইতে পারেন না এবং এটাকে অনুপযুক্ত বলে মনে করেন। আসলে অসমের কিছু স্কুলে বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমিনুলের মতে মুসলিমরা বন্দে মাতরম গান গাইতে পারে না।
এর আগে তিনি জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওকে বিজেপির সাথে যুক্ত করে আরও বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। এই ধরনের মন্তব্য দেশের সামনে হুমকির সময় লয়ালটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে এমন পরিস্থিতিতে তারা কাকে সমর্থন করবেন?
স্টেজে অপমান, বনগাঁয় লাইভ শোয়ে হেনস্থার অভিযোগ মিমির
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মন্তব্য ভাইরাল হয়েছে এবং বিভিন্ন মহলে নিন্দা ও সমর্থনের ঝড় উঠেছে।ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে অসমের ধিং বিধানসভা এলাকার এমএলএ আমিনুল ইসলামের একটি ভিডিওতে, যেখানে তিনি স্কুলে বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে কথা বলছেন।
তিনি দাবি করেন যে মুসলিম ছাত্রদের ধর্মীয় কারণে এই গান গাইতে বাধ্য করা উচিত নয়। “বন্দে মাতরম” হল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “আনন্দমঠ” উপন্যাস থেকে নেওয়া একটি গান, যা ভারতের রাষ্ট্রীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃত।
কিন্তু অতীতে এই গান নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের বিরোধিতা ছিল, কারণ তারা মনে করেন এতে দেবী দুর্গার উল্লেখ রয়েছে যা একেশ্বরবাদী ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। আমিনুলের মন্তব্য এই পুরনো বিতর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।
এর আগে আমিনুল পহেলগাঁও নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে পহেলগাঁওয়ের মতো স্থান বিজেপির সাথে যুক্ত, যা অনেকের কাছে অসম্পর্কিত ও উস্কানিমূলক মনে হয়েছে।
অসমে যেখানে সংখ্যালঘু রাজনীতি সবসময় সংবেদনশীল, সেখানে এই ধরনের কথা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বাড়িয়েছে। বিজেপি নেতারা আমিনুলের মন্তব্যকে “দেশবিরোধী” বলে আক্রমণ করেছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন যে বন্দে মাতরম গাওয়া দেশভক্তির প্রতীক এবং এতে ধর্মীয় বাধা দেখানো অগ্রহণযোগ্য। কংগ্রেসও এই মন্তব্যের নিন্দা করে বলেছে যে এটি সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
একদিকে কেউ কেউ আমিনুলের পক্ষে বলছেন যে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা উচিত এবং জোর করে কোনও গান গাইতে বাধ্য করা যায় না। অন্যদিকে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে দেশের জাতীয় প্রতীকগুলোতে অংশগ্রহণ না করলে লয়ালটির প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
বিশেষ করে ভারত যখন সীমান্ত হুমকি, সন্ত্রাসবাদ এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মুখোমুখি, তখন এই ধরনের মন্তব্য কোন দিকে যায়? সমালোচকরা বলছেন যে এটি সাম্প্রদায়িকতা ছড়াতে পারে এবং দেশের ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে।




















