তালিবান জঙ্গি সরকারের গঠন কেমন হতে পারে, কারা থাকছে

নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত যে নিয়ম রয়েছে তালিবান সংগঠনের সেটার ভিত্তিতেই সরকার গড়তে চলেছে তালিবান। আফগানিস্তানের তাদের এই দ্বিতীয় দফার সরকারে পুরনো প্রেসিডেন্ট ভিত্তিক দেশ থাকতে নাও পারে। এখানেই ...

By Rana Das

Published:

Updated:

Follow Us
Taliban government

নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত যে নিয়ম রয়েছে তালিবান সংগঠনের সেটার ভিত্তিতেই সরকার গড়তে চলেছে তালিবান। আফগানিস্তানের তাদের এই দ্বিতীয় দফার সরকারে পুরনো প্রেসিডেন্ট ভিত্তিক দেশ থাকতে নাও পারে। এখানেই প্রশ্ন, তালিবান সরকার কি তাদের আমীরতন্ত্র চালু করবে আফগানিস্তানে ?

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তানের নাম পাল্টে দেয় তালিবান। নতুন নাম হয়েছে ইসলামি আমীরশাহি আফগানিস্তান। পাল্টে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পতাকা। এই নিয়ে দেশটির জাতীয় পতাকা ১৯ বার পাল্টেছে। এখন তালিবান সংগঠনের পতাকা উড়ছে কাবুল প্যালেসে।

   

ফরেন পলিসি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়েব ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এমন কিছু গঠনতন্ত্র আনতে চলেছে যাতে প্রেসিডেন্ট পদ থাকতেও না পারে। সেক্ষেত্রে আমীর পদ ফের চালু করবে তালিবান জঙ্গিরা।

আফগান সংবাদ মাধ্যম আরিয়ানা নিউজ জানাচ্ছে, দেশ শাসনের জন্য ১২ সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করতে যাচ্ছে তালিবান। এই কাউন্সিলে থাকতে পারেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আফগান পুনর্গঠন কাউন্সিলের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এবং ইসলামিক পার্টির নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার। তিনজনেই আফগান রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। হেকমতিয়ার প্রাক্তন মুজাহিদিন, যিনি সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে অংশ নেন। আফগান গৃহযুদ্ধের সময় হেকমতিয়ারের ভূমিকা বিতর্কিত বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

তালিবান জনসংযোগ বিভাগ জানাচ্ছে, গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে এই তিন নেতাকে নিয়েছে একটি সমন্বয় কাউন্সিল গঠন করা হয়। তারা ধারাবাহিকভাবে তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ফরেন পলিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তান শাসন করতে ১২ সদস্যের কাউন্সিল গঠন করবে তালিবান। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য প্রশাসন গঠনে মরিয়া থাকাতে চায় এই মারাত্মক জঙ্গি সংগঠনটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অপসারিত আশরাফ ঘানির সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে এই কাউন্সিলে যুক্ত করতে পারে তালিবান।

কাউন্সিলের সর্বচ্চো তিন প্রধান হবে তালিবানের সহ প্রতিষ্ঠাতা আবদুল ঘানি বারাদার, তালিবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মহম্মদ ইয়াকুব এবং তালিবান সহযোগী জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব।
ইতিমধ্যে হাক্কানি নেটওয়ার্ক প্রধান জঙ্গি নেতা আনাস হাক্কানির সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের বৈঠকের ছবি প্রকাশ হয়েছে। আফগান বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কারজাইকে বিশেষ পদ দেওয়া হবে। কারণ তিনিই ছিলেন তালিবান ও পূর্বতন আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি বৈঠকের অন্যতম নেতা।
তালিবান কী রকম সরকার গড়বে, কেউ জানে না। তবে এই সরকারকে সমর্থন দিতে চাইছে একের পর এক দেশ। রাশিয়া, চিন, ইরান, ইংল্যান্ড এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সমর্থন দেবে বলেই ইঙ্গিত।

কাবুলে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার প্রধানের সঙ্গে তালিবান বৈঠকের পর প্রচুর প্রশ্ন উঠে আসছে। যে তালিবান গত জঙ্গি জমানায় প্রকাশ্যে মাথা কাটার সরকার গড়েছিল তাদের চরিত্র কি বদলেছে ?

কাবুল দখল করার পর গত ১৫ আগস্ট তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানায়, এই তালিবান সেই আগের তালিবান নয়। তবে আফগানিস্তান থেকে ইতিমধ্যেই একের পর গণহত্যার খবর আসছে। লাল তারিখ ৩১ আগস্ট। মার্কিন সেনা পুরোপুরি ছাড়বে আফগানিস্তান। তারপর কী হবে, প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলের।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Rana Das

Rana Das pioneered Bengali digital journalism by launching eKolkata24.com in 2013, which later transformed into Kolkata24x7. He leads the editorial team with vast experience from Bartaman Patrika, Ekdin, ABP Ananda, Uttarbanga Sambad, and Kolkata TV, ensuring every report upholds accuracy, fairness, and neutrality.

Follow on Google