বারামতি: ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পওয়ারের। বুধবার সকালে বারামতি এয়ারস্ট্রিপে অবতরণের সময় তাঁর চার্টার্ড বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তীব্র অভিঘাত ও পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডে অজিত-সহ বিমানে থাকা পাঁচ আরোহীই দগ্ধ হয়ে মারা যান৷ শরীর এতটাই জ্বলে গিয়েছিল যে, তাঁদের চেনার কোনও উপায় ছিল না। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত সামগ্রী ও হাতের ঘড়ি দেখে শনাক্ত করা হয় পাওয়ারের দেহ। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! যে ‘ঘড়ি’ তাঁর দলের নির্বাচনী প্রতীক, সেই ঘড়িটিই শেষ মুহূর্তে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করল।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট
আসন্ন জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতি নির্বাচনের প্রচারের উদ্দেশ্যে বুধবার সকালে বারামতির পথে রওনা হয়েছিলেন অজিত পাওয়ার। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, এদিন সকালে বারামতি ও সংলগ্ন এলাকায় দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম ছিল। অবতরণের সময় এয়ারস্ট্রিপের কাছেই বিমানটি ভেঙে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে তাতে আগুন ধরে যায়। বিমানে থাকা পাঁচজনই মৃত্যু কোলে ঢোলে পড়ে।
কী করে শনাক্ত? Ajit Pawar identified by wristwatch
উদ্ধার কাজে হাত লাগানো স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দেহগুলি দেখে পরিচয় বোঝার কোনো পরিস্থিতি ছিল না। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমরা ওঁর হাতে ঘড়ি এবং পরনের পোশাকের অবশিষ্টাংশ দেখে বুঝতে পারি এটি অজিত পাওয়ারের দেহ। ওঁর মুখ চেনার মতো অবস্থায় ছিল না।” পাওয়ারের এই করুন পরিণতিতে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। এনসিপি নেতা অমল মিটকারি বলেন, “অজিত দাদা তৃণমূল স্তরের কর্মীদের অভিভাবক ছিলেন। আমাদের দলীয় প্রতীকের মাধ্যমে আজ ওঁর পরিচয় মিলল, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কিছু হতে পারে না।”
শোকে মূহ্যমান নির্বাচনী কেন্দ্র
এদিন সকাল ১০টা থেকে নিরাগজ, পান্ধারে ও সুপা-সহ একাধিক গ্রামে পাওয়ারের জনসভা করার কথা ছিল। প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে ফুল-মালা নিয়ে তৈরি ছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু মুহূর্তের ব্যবধানে বদলে যায় চিত্রপট। প্রচারের উৎসবের মেজাজ নিমেষে বিষাদে পরিণত হয়। প্রিয় ‘দাদা’-র মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই অঘোষিত বনধের চেহারা নেয় বারামতি।
ইতিমধ্যেই ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, ঘন কুয়াশাই এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে প্রধান কারণ। এক বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনের এমন মর্মান্তিক ও আকস্মিক সমাপ্তিতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।




















