মুম্বই: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নক্ষত্রপতন। যার অঙ্গুলিহেলনে বদলে যেত মারাঠা রাজনীতির সমীকরণ, সেই অজিত পওয়ার আর নেই। বুধবার সকালে বারামতিতে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্যের বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ এবং বর্ণময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।
এক যুগের অবসান: উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘতম ইনিংস
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ‘দাদা’ নামে পরিচিত অজিত পওয়ার ছিলেন একাধারে তুখোড় সংগঠক এবং দক্ষ প্রশাসক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মোট ছয়বার রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পৃথ্বীরাজ চহ্বন থেকে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, আদর্শগতভাবে ভিন্ন মেরুর মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেও অত্যন্ত সাবলীলভাবে কাজ করার এক বিরল নমনীয়তা ছিল তাঁর মধ্যে। তাঁর মৃত্যুতে বর্তমানে ক্ষমতাসীন ‘মহাযুতি’ জোট বড়সড় ধাক্কা খেল।
এনসিপি-র ভবিষ্যৎ ঘিরে ঘনীভূত অনিশ্চয়তা Ajit Pawar death impact
২০২৩ সালে কাকা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে এনসিপি ভেঙে নিজস্ব শিবিরের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অজিত। বর্তমানে তাঁর হাতেই ছিল দলের একচ্ছত্র ক্ষমতা। কিন্তু তাঁর এই চলে যাওয়া দলকে এক গভীর সংকটে ফেলে দিল। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অজিত পওয়ারের মৃত্যুর ঠিক আগে এনসিপির দুই শিবিরের মধ্যে বরফ গলার ইঙ্গিত মিলছিল। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনগুলিতে পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড়ে দুই গোষ্ঠীর একসঙ্গে লড়াই সেই সমঝোতার ইঙ্গিতই দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর মৃত্যু এনসিপির ‘প্রথম পরিবার’-এর পুনর্মিলনের সম্ভাবনাকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল। অজিত পাওয়ারের অনুপস্থিতিতে তাঁর অনুগামী ৪১ জন বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নেতৃত্বের সংকট
শরদ পওয়ারের বয়স এখন ৮৩ বছর। সুপ্রিয়া সুলে দিল্লির রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও, তাঁর পক্ষে মহারাষ্ট্রের গ্রামীণ জনপদে অজিতের মতো ‘মাস লিডার’ বা জননেতার অভাব পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন।
শ্রদ্ধার্ঘ্য ও শোকবার্তা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর শোকবার্তায় অজিত পওয়ারের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগের কথা স্মরণ করেন। শিবসেনা (UBT) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী তাঁর কর্মঠ ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে বলেন, “ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতেন তিনি।”
বারামতির উত্তরাধিকারী কে?
অজিত পওয়ারের মৃত্যু কেবল একটি রাজনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং বারামতির পাওয়ার পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ব্যক্তিগত শূন্যতা। অজিতের বিদায়ে এখন বারামতির দায়িত্ব কে সামলাবেন এবং এনসিপির রাশ কার হাতে থাকবে, তা ঘিরেই এখন মহারাষ্ট্রের রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে।




















