ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল (Ajit Doval)যখন কোনো সফরে যান, তখন সাধারণত সেটা হয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, গোপন আলোচনা বা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে। কিন্তু তাঁর তিরুবনন্তপুরম সফর ছিল একেবারে ভিন্ন ধরনের একদম নিঃশব্দ, নিম্নপ্রোফাইল এবং সাধারণ মানুষের মতো। কোনো সাইরেন, কোনো কনভয়, কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
শুধু এক সকালে, প্রায় ৮টা নাগাদ, তিনি পৌঁছে গেলেন পাজাভাঙ্গাড়ি জংশনের কাছে বিখ্যাত স্ন্যাকস দোকান ‘মহা চিপস’-এ। সাধারণ পোশাকে, সঙ্গে কয়েকজন সাদা পোশাকের নিরাপত্তাকর্মী। দোকানের কর্মচারীরা পর্যন্ত প্রথমে বুঝতে পারেননি কে এই গ্রাহক। তিনি বানানা চিপস আর কিছু মিষ্টি কিনলেন, কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বললেন।
আরও দেখুন: ‘মোদীর ব্যাটা’ মন্তব্যে বিস্ফোরণ পাল্টা ‘বাবা চোর’ স্লোগানে শোরগোল বিধানসভায়
পরে সেই সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। লোকে অবাক হয়ে বলাবলি করতে থাকে, “এ তো দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা অফিসার! এমন সাধারণভাবে চিপস কিনতে আসছেন?” কিন্তু এই ‘সাধারণ’ মুহূর্তের পিছনে লুকিয়ে ছিল একটা গভীর ও গুরুতর কারণ। ডোভালের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার (ভিএসএসসি)-এ যাওয়া।
যেখানে তিনি ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (আইএসআরও)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সফর হয়েছে ২২-২৩ জানুয়ারি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে।কেন এত গোপনীয়তা? কারণ এর পিছনে রয়েছে আইএসআরও-র পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি)-এর টানা দুটো ব্যর্থতা। ২০২৫ সালের ১৮ মে পিএসএলভি-সি৬১ মিশন ব্যর্থ হয় তৃতীয় স্টেজের ইগনিশন সমস্যায়।
তারপর ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি পিএসএলভি-সি৬২ মিশনেও একই ধরনের সমস্যা তৃতীয় স্টেজে অ্যানোমালি। এতে ইওএস-এন১ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্ভেইল্যান্স স্যাটেলাইটসহ ১৫টি কো-প্যাসেঞ্জার স্যাটেলাইট হারিয়ে যায়। শুধু একটি স্প্যানিশ স্যাটেলাইট কিছুক্ষণ ডেটা পাঠাতে পেরেছিল। পিএসএলভি-র ৯৩ শতাংশের বেশি সাফল্যের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও এই টানা ব্যর্থতা সবাইকে চিন্তায় ফেলে দেয়।
এই ব্যর্থতাগুলো কি শুধু প্রযুক্তিগত? নাকি অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র এই প্রশ্ন উঠতেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ডোভাল নিজে গিয়ে ভিএসএসসি-তে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি ভিএসএসসি ডিরেক্টর এ. রাজারাজনসহ সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তৃতীয় স্টেজের প্রপালশন সিস্টেম, টেস্টিং প্রক্রিয়া সবকিছু খতিয়ে দেখা হয়। পরে ইউনিয়ন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, ষড়যন্ত্রের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি। তবে তদন্ত চলছে আইএসআরও-র অভ্যন্তরীণ কমিটি ছাড়াও বাইরের স্বাধীন এজেন্সি দিয়ে রিভিউ করা হবে। পরবর্তী পিএসএলভি লঞ্চের লক্ষ্য জুন ২০২৬।




















