আহমেদাবাদ: আহমেদাবাদ শহরের জমালপুর এলাকায় ঘটে গেল এক ঘৃণ্য ঘটনা (Ahmedabad)। স্থানীয় একটি মসজিদের ছাদে ৭ বছরের এক নিরীহ শিশুকে নামাজ শেখানোর ছলে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ২৩ বছরের যুবক নোমান শব্বির শেখকে গায়কওয়াড় হাভেলি থানার পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং শিশু যৌন নির্যাতন থেকে সুরক্ষা আইন (POCSO Act)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে জুম্মার নামাজের সময়। শিশুটি মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিল। অভিযুক্ত নোমান শব্বির শেখ শিশুটিকে নামাজ শেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে মসজিদের ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট ধরে শিশুটির উপর অমানবিক যৌন নির্যাতন চালায়। নির্যাতিত শিশুটি সাহস করে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। পরিবার তাৎক্ষণিক পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে।
পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ইন্সপেক্টর চিরাগ গোসাই জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও শারীরিক নির্যাতনের মামলা রয়েছে।এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং বিশ্বাসের অপব্যবহারের এক জঘন্য উদাহরণ। মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন নৃশংস কাজ ঘটেছে, যা সমাজের সকল স্তরে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
শিশুটির পরিবার এখন মানসিক আঘাতে ভুগছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন। POCSO আইনের অধীনে শিশু নির্যাতনের মামলায় দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে অভিযুক্তকে কঠোর শাস্তি দেওয়া যায়।সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে এই ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে।
শিশু অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এমন ঘটনা প্রতিরোধে শিশুদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে ধর্মীয় স্থানে তাদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা হয় তা নিয়ে আরও সচেতনতা দরকার। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা, যাতে তারা কোনও অস্বস্তিকর ঘটনা লুকিয়ে না রাখে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং শিশুটির বয়ান এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




















