কলকাতার (Kolkata) এক ব্যস্ত রাস্তা। একটা চার্চ। ফাঁকা ধু ধু রাস্তা। আর একটা ঘর। সেই ঘরের এক কোনে রাখা রয়েছে একটি চেয়ার। এই চেয়ারে বসতেন ইতিহাস প্রসিদ্ধ ওয়ারেন হেস্টিংস, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তথা ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল।
ইতিহাসের কোলকাতা জানতে হলে ওয়ারেন হেস্টিংস এক বড় ভূমিকায় থাকবেন। উল্লেখ্য, হেস্টিংসই একমাত্র সেই জমানার উচ্চ-প্রশাসক যিনি কখনো কোনো নাইটহুড বা লর্ড উপাধি পাননি। নইতিহাস ভালো লাগলে অবশ্যই দেখে আসতে পারেন এই চেয়ারটি কোলকাতার কাউন্সিল হাউস স্ট্রিটের সেইন্ট জন’স চার্চে। এই চার্চের ছত্রে-ছত্রে পুরানো কোলকাতার ইতিহাস আপনার চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠবে।
সালটা ছিল ১৬৯০। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক ব্যবসায়ী স্যার জব চার্নক সুতানুটি গ্রামে (এখনকার উত্তর কলকাতা) এসে থাকতে শুরু করেন। পরবর্তী এক বছরের মধ্যে উনি… সুতানুটি, গোবিন্দপুর ও কালিকট এই তিন গ্রাম মিলিয়ে গঠন করেন কলকাতা শহরের ,.সেই যুগের ক্যালকাটা)।
তার পরের বছর চার্নকের মৃত্যু হয় এবং তার জামাই চার্লস আয়ার তাকে সমাধিস্থ করেন। সমাধির আকৃতি হয় অষ্টভুজ আকারের। পাথর আনা হয় সুদূর মাদ্রাজ থেকে জায়গাটা নির্দিষ্ট হয়, আজকের দিনে রাজভবন যেখানে রয়েছে, তার উত্তর পশ্চিম প্রান্তে। এই একই জায়গায় পরবর্তীকালে চার্নকের সমাধি স্তম্ভেই সমাধিস্থ করা হয় তার স্ত্রী ও আরও অনেক বিশিষ্ট মানুষকে।
সমাধিস্থলটি ছিল বেশ অনেকটা জায়গা জুরে।আর সম্পূর্ণ জায়গাটি ছিল, সেই সময়ের শোভাবাজার রাজপরিবারের কর্ণধার মহারাজ নব কিষেন বাহাদুরের। ১৮শ শতাব্দীর শেষের দিকে উনি এই এলাকা দান করেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে। ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে সেই সময়ের গভর্নর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া, ওয়ারেন হেস্টিংস, শিলান্যাস করেন কলকাতার প্রথমদিকের কিছু সরকারি বিল্ডিংগুলির একটির। তৈরি হয় St. John’s Church ( সেই সময়ের ক্যাথিড্রাল)।
বর্তমান সময়ে সিটি সিভিল কোর্ট এলাকায় অবস্থিত এই চার্চটি ভীষণ সুন্দরভাবে সাজানো গোছানো। চার্চের পেছনদিকে রয়েছে কিছু সমাধিস্থল, যাদের মধ্যে অন্যতম অবশ্যই চার্নক। এছাড়াও রয়েছে ফুলের বাগান, অন্ধকূপ হত্যার স্মৃতিস্তম্ভ, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্ছির বিখ্যাত ছবি, দ্য লাস্ট সাপারের একটি রেপ্লিকাও রয়েছে চার্চের ভিতরে। শহরের অন্যান্য চার্চগুলির থেকে ভিড়টা কিছুটা হলেও কম আর অনেক বেশি শান্ত ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই চার্চ।
সাধারন মানুষের জন্যে এই চার্চ খোলা থাকে সপ্তাহের প্রতিদিন। সোম থেকে শনি সকাল ৮.০০ টা থেকে বিকেল ৫.০০ টা, এবং রবিবার ১০.০০ টা থেকে ৪.০০ টে। প্রবেশমূল্য ১০ টাকা প্রতি জন।