কলকাতা: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর অধীনে পশ্চিমবঙ্গে আরও ৫,৯৬৬ জনকে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে উত্তর ২৪ পরগনার উপভোক্তাদের হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দিয়ে তিনি জানান, বাকি আবেদনগুলিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত ২৩,৯৫৬ জন CAA-এর অধীনে নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন। এর মধ্যে গত ১১ সপ্তাহে ৫,৯৬৬ জনকে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মোট ২,৩০,৬০৫টি আবেদন জমা পড়েছে।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নদিয়া জেলায় সর্বাধিক ১০,১৯১ জন নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন। এরপর রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, যেখানে ৮,৯৩০ জন শংসাপত্র পেয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা এখনও আবেদন করেননি, তাঁরা দ্রুত আবেদন করুন। তিনি জানান, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতন বা প্রাণ বাঁচানোর জন্য ভারতে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা হবে না এবং পুলিশও তাঁদের হয়রানি করতে পারবে না। এই বিষয়ে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ কেন্দ্র সরকার একটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, CAA-এর আওতায় পড়া কোনও ব্যক্তি যদি বর্তমানে জেলে থাকেন, তবে সরকার তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা করবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ভারতে আসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তাঁদের নাম ভোটার তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে।
CAA নিয়ে আগের রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই আইনে কোথাও মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কথা বলা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার CAA-কে NRC বলে প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল এবং সেই সময় সরকারি সম্পত্তিরও ক্ষতি হয়েছিল।
শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার ৩০০ জন উপভোক্তার হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে বনগাঁর ১২০ জন, বারাসতের ১২০ জন এবং বসিরহাটের ৬০ জন ছিলেন।
শংসাপত্র হাতে পেয়ে বনগাঁর বাসিন্দা চম্পা রায় বলেন, “অনেকদিনের অপেক্ষার পর নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়ে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।” একইভাবে বনগাঁরই গোপালচন্দ্র মৃধা জানান, নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি।





