Jamshedpur FC অনিশ্চয়তায়, ক্লাব ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন ফুটবলাররা

হতাশা, ক্ষোভ আর তীব্র অবিশ্বাসের আগুনে এখন ফুঁসছে জামশেদপুর এফসির (Jamshedpur FC) ড্রেসিংরুম।  যে TATA নামের ওপর অন্ধ ভরসা করে খেলোয়াড়রা অন্য ক্লাবের লোভনীয় প্রস্তাব…

jamshedpur-fc-players-react-amid-club-closure-uncertainty

হতাশা, ক্ষোভ আর তীব্র অবিশ্বাসের আগুনে এখন ফুঁসছে জামশেদপুর এফসির (Jamshedpur FC) ড্রেসিংরুম।  যে TATA নামের ওপর অন্ধ ভরসা করে খেলোয়াড়রা অন্য ক্লাবের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সেই টাটা গ্রুপের আচমকা ফুটবল দল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ময়দানে কার্যত ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। ডুরান্ড কাপের পরেই ঝাঁপ বন্ধের এই জল্পনায় আর চুপ করে বসে নেই ফুটবলাররা। নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং সর্বোপরি ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে এবার ম্যানেজমেন্টের এই ‘সর্বনাশা’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে গর্জে উঠলেন তাঁরা।

“গতকাল খবরটা শোনার পর থেকে আমরা বিভ্রান্ত, আমরা ক্ষুব্ধ!” ঠিক এই ভাষাতেই নিজেদের রাগ উগরে দিয়েছেন দলের এক ফুটবলার। তাঁর কথায় মিশে আছে বুক ফাটা অভিমান আর চূড়ান্ত বিশ্বাসভঙ্গের যন্ত্রণা। তিনি বলেন, “পেশাদার হিসেবে আমাদের কাছে বহু ক্লাবের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু শুধু ‘টাটা’ নামটার প্রতি অগাধ বিশ্বাস থেকেই আমরা এখানে এসেছিলাম। গত এক দশকে আমরা রক্তজল করে এই ক্লাবকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে গিয়েছি। আইএসএল শিল্ড জিতেছি, গত দু’বছর ধরে টানা চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে থেকেছি। তার পুরস্কার কি এই আচমকা অবলুপ্তি?”

Advertisements

বিদ্রোহের এই আগুন শুধু নিজেদের ভবিষ্যতের জন্যই নয়, বরং ভারতীয় ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থেও। নিখিল, বিশাল, সানান কিংবা অ্যালবিনোদের মতো তরুণ প্রতিভারা এই জামশেদপুরের মাটি থেকেই জাতীয় দলের আঙিনায় পৌঁছেছেন। খেলোয়াড়দের স্পষ্ট বার্তা, “যেখানে দাঁড়িয়ে ভারত বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখছে, সেখানে টাটার মতো এক মহীরুহ যদি হঠাৎ করে এমন একটা সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা শুধু ভারতীয় ফুটবলের নয়, গোটা দেশের ক্রীড়াজগতের জন্য এক মারাত্মক ক্ষতি।”

দলের এক প্রবীণ ফুটবলার টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির সোনালি ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় শীর্ষকর্তাদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন। রুদ্ধশ্বাস ড্রেসিংরুম থেকে তাঁদের একটাই দাবি, “দয়া করে এই পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করুন। এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখুন। প্লিজ, এটাই যেন জামশেদপুর এফসির শেষ বাঁশি না হয়!” বোর্ডরুমের বন্ধ দরজায় এখন আছড়ে পড়ছে খেলোয়াড়দের এই সম্মিলিত গর্জন, অপেক্ষায় গোটা ভারতীয় ফুটবল মহল।