শ্রীনগর: জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স (Farooq Abdullah)নেতা ফারুক আব্দুল্লাহর একটি মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্রপদের দাবি উঠলেই কেন জঙ্গি হামলা হয়?” এই প্রশ্ন তুলে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবির সময়েই নাকি এমন ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন কাশ্মীরের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সন্ত্রাসবাদের শিকড় অনেক গভীরে। ১৯৮৯-৯০ সাল থেকে উপত্যকায় জঙ্গি হামলা শুরু হয়। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিতাড়ন, নিরীহ নাগরিকদের হত্যা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণ এসব ঘটনা গত ৩৭ বছর ধরে চলছে। এই সময়ে রাষ্ট্রপদের দাবি উঠেছে , কিন্তু সন্ত্রাস থামেনি।
আরও দেখুনঃ লাদাখে যুদ্ধযানের জন্য Indian Army কেন XWG ডিজেলের দিকে ঝুঁকছে?
বরং অনেক সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো তৎপর হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সন্ত্রাসের পেছনে পাকিস্তানি মদদ ও জঙ্গি আদর্শের প্রভাব অনেক বেশি। এটিকে শুধু রাজনৈতিক দাবির সঙ্গে যুক্ত করা বাস্তবতা থেকে দূরে সরে যাওয়া।সম্প্রতি কুলগামে দুই ছত্তিশগড়ি শ্রমিকের মৃত্যু এবং অনন্তনাগে পুলিশ কর্মীর হত্যার ঘটনার পর ফারুক আব্দুল্লাহ (Farooq Abdullah)এই মন্তব্য করেছেন।
তিনি আরও বলেছেন, তিনি জানেন না হামলাকারীরা কারা। এই বক্তব্যও ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন উপত্যকার দশকের পর দশকের সন্ত্রাসের ঘটনায় কি সত্যিই অজানা থেকে যায় অপরাধীরা? (Farooq Abdullah)লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মোহাম্মদসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর নাম বারবার উঠে এসেছে। পাকিস্তানের মদদপুষ্ট এই সংগঠনগুলোর ভূমিকা প্রায় সবাই জানেন।
আরও দেখুনঃ নতুন রূপে myAadhaar: বিটা ওয়েবসাইট আনল UIDAI
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া তীব্র। বিজেপি নেতারা বলছেন, এই মন্তব্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইকে দুর্বল করে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের সমর্থকরা বলছেন, ফারুক আব্দুল্লাহ রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলছেন, সেটাই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান। কিন্তু সময় ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে কথা বলা উচিত ছিল।
কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ আজকাল শান্তি চায়। অমরনাথ যাত্রায় চার লক্ষের বেশি ভক্ত নিরাপদে দর্শন করে ফিরছেন। পর্যটন ফিরছে, অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। এই সময় জঙ্গি হামলাগুলো সবাইকে নাড়া দিচ্ছে। নিরীহ শ্রমিকদের হত্যা, পুলিশ কর্মীর মৃত্যু এসব ঘটনা উপত্যকার স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, রাজনৈতিক নেতারা কেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেন না? কেন বারবার একই যুক্তি দিয়ে ঘটনাকে অন্যদিকে ঘোরানো হয়?





