নয়াদিল্লি: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) অন্যতম অভিজ্ঞ কর্মকর্তা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor ) আকাশপথের সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী এয়ার মার্শাল আওয়াধেশ কুমার (এ কে) ভারতী ৩৯ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনে অবসর নিলেন।
১৯৮৭ সালের জুন মাসে ফ্লাইং ব্রাঞ্চে কমিশনপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি একজন দক্ষ যুদ্ধবিমান চালক হিসেবে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ-এর প্রাক্তনী এবং ফাইটার কমব্যাট লিডার ছিলেন।
কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি Su-30 যুদ্ধবিমান বহরের নেতৃত্ব দেন, যখন এই বিমানটি ভারতীয় বায়ুসেনার মূল অপারেশনাল পরিষেবায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছিল। নং ৩০ স্কোয়াড্রন-এর ফ্লাইট কমান্ডার এবং পরে কমান্ডিং অফিসার হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে Su-30MKI Phase III যুদ্ধবিমানকে সম্পূর্ণ যুদ্ধোপযোগী করে তোলা হয়।
তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় বায়ুসেনা গগন শক্তি, ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সঙ্গে ইন্দ্রধনুষ ২০০৬ এবং ফরাসি বিমানবাহিনীর সঙ্গে গারুড়া ২০০৭-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মহড়ায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করে। এই অবদানের জন্য তিনি বায়ু সেনা মেডেল পান।
পরবর্তী সময়ে এয়ার মার্শাল ভারতী এয়ার হেডকোয়ার্টার্স, স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড, ইস্টার্ন এয়ার কমান্ড, পুনের ২ উইং এবং সেন্ট্রাল এয়ার কমান্ড-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় পর্যায়ে বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন ডিরেক্টর জেনারেল (এয়ার অপারেশনস) হিসেবে অপারেশন সিঁদুর পরিচালনার সময়।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার জবাবে ভারত অপারেশন সিঁদুর শুরু করে। এই অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি, রাডার কেন্দ্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালায়। ১০ মে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির আবেদন জানায়।
অপারেশন সিঁদুরে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের জন্য এয়ার মার্শাল ভারতীকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন সম্মান ‘সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা পদক’ (Sarvottam Yudh Seva Medal) প্রদান করা হয়।
অভিযান শেষ হওয়ার পর তিনি ডেপুটি চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির (NDA) ৭০তম কোর্স এবং ১৩৯তম পাইলট কোর্স-এর প্রাক্তনী।
৩৯ বছরের কর্মজীবনে এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী ভারতীয় বায়ুসেনার আধুনিক যুদ্ধনীতি, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর অবসর একটি গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও, তাঁর প্রবর্তিত কৌশল ও অপারেশনাল নীতি ভবিষ্যতেও ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের





