e VITARA উৎপাদন শুরু! Maruti Suzuki-এর গুজরাট প্ল্যান্টে বড় মাইলফলক

গান্ধীনগর: ভারতের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বড় পদক্ষেপ নিল Maruti Suzuki India Limited। সংস্থাটি বৃহস্পতিবার গুজরাটের হাঁসালপুর (Hansalpur)-এ তাদের চতুর্থ উৎপাদন ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে।…

maruti-suzuki-gujarat-plant-starts-e-vitara-production

গান্ধীনগর: ভারতের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বড় পদক্ষেপ নিল Maruti Suzuki India Limited। সংস্থাটি বৃহস্পতিবার গুজরাটের হাঁসালপুর (Hansalpur)-এ তাদের চতুর্থ উৎপাদন ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। এর ফলে একক স্থানে বছরে ১০ লক্ষ (১ মিলিয়ন) গাড়ি উৎপাদনের ক্ষমতা অর্জন করল এই কারখানা, যা এখন ভারতের বৃহত্তম প্যাসেঞ্জার ভেহিকল উৎপাদন কেন্দ্র।

নতুন Plant D চালু হওয়ার ফলে হাঁসালপুর কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৭.৫ লক্ষ থেকে বেড়ে ১০ লক্ষ ইউনিটে পৌঁছেছে। সংস্থার দাবি, এটি বিশ্বে Suzuki-এর প্রথম উৎপাদন কেন্দ্র, যেখানে একটিমাত্র স্থানে বছরে ১০ লক্ষ গাড়ি তৈরির সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

Advertisements

এই নতুন ইউনিট চালু হওয়ার পর Maruti Suzuki-র ভারতে মোট বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে ২৯ লক্ষ (২.৯ মিলিয়ন) ইউনিট হয়েছে।
সংস্থা জানিয়েছে, হাঁসালপুর প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত মোট ২৫,২৮৮.৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্ল্যান্টে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩,৯০০ কোটি টাকা।

e VITARA দিয়েই শুরু

নতুন কারখানায় প্রথমে উৎপাদন করা হবে Maruti Suzuki-এর প্রথম ব্যাটারি চালিত বৈদ্যুতিক SUV ‘e VITARA’। এই মডেলের মাধ্যমে সংস্থা ভারতের ইলেকট্রিক প্যাসেঞ্জার ভেহিকল বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।

বর্তমানে হাঁসালপুর কারখানায় FRONX, Baleno, Swift এবং e VITARA-সহ একাধিক জনপ্রিয় মডেলের উৎপাদন হয়।

রপ্তানির বড় কেন্দ্র

এই গুজরাট প্ল্যান্ট এখন Maruti Suzuki-এর অন্যতম প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংস্থার মোট বিদেশে রপ্তানির প্রায় ৪৭ শতাংশ গাড়ি এই কারখানা থেকেই পাঠানো হয়েছে।

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

পরিবেশবান্ধব পরিবহণে জোর

সংস্থা জানিয়েছে, গুজরাট প্ল্যান্টে পরিবেশবান্ধব লজিস্টিক ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এখানে ভারতের প্রথম ইন-প্ল্যান্ট অটোমোবাইল রেলওয়ে সাইডিং চালু করা হয়।

২০২৩ সালের মার্চ থেকে রেলপথে সাড়ে ৭ লক্ষেরও বেশি গাড়ি পরিবহণ করা হয়েছে। এর ফলে কার্বন নিঃসরণ, জ্বালানি খরচ এবং সড়কের যানজট কমাতে সাহায্য হয়েছে বলে সংস্থার দাবি।

এছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই রেল পরিবহণ প্রকল্পটি Verra Verified Carbon Standard (VCS)-এর অধীনে বিশ্বের প্রথম Modal Shift Transportation Project হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

দক্ষ কর্মী তৈরিতেও উদ্যোগ

শুধু উৎপাদন নয়, দক্ষ জনবল তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে Maruti Suzuki। ভারত ও জাপান সরকারের সহযোগিতায় মেহসানা এবং গান্ধীনগরে দুটি Japan-India Institute for Manufacturing (JIM) প্রতিষ্ঠা করেছে সংস্থা। ইতিমধ্যেই এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে ১,২০০-রও বেশি শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

নতুন উৎপাদন ইউনিট চালুর মাধ্যমে Maruti Suzuki একদিকে যেমন দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াল, তেমনই বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল।