কলকাতা: পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বা জালিয়াতির মতো বেআইনি কার্যকলাপ কঠোর হাতে দমন করতে এবার আরও এক ধাপ এগাল কেন্দ্র। বুধবার লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে গেল বহুল আলোচিত ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। পেপার লিক বিরোধী এই নতুন আইনে দোষীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার খাড়া ঝুলবে।
গত ২৭ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এই বিলটি সংসদে পেশ করেছিলেন। সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের জেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এই বিলটিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট শোরগোল পড়েছিল। বুধবার লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ও ছাত্র বিক্ষোভের পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে উত্তাল বিতর্কের মাঝেই বিলটি পাশ করানো হয়। বিরোধী শিবিরের তুমুল স্লোগান ও হট্টগোলের মধ্যেই বিলটি পাশ হওয়ার পর লোকসভার অধিবেশন দিনের মতো মুলতুবি ঘোষণা করা হয়। লোকসভায় সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পর এবার বিলটি রাজ্যসভায় পেশ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
নতুন বিলে কী কী রয়েছে?
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ১০ বছরের জেল এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানার কঠোর নিয়ম আনা হয়েছে। কেবল ব্যক্তিবিশেষ নয়, যে সমস্ত সংঘটিত অপরাধী চক্র পেপার লিকের পেছনে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
দেশের প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা একচেটিয়াভাবে কেবল পেপার লিক সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করবে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থাৎ দুই মাসের মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সংসদে রাহুল গান্ধী বনাম কেন্দ্র সংঘাত
বিলটি পাশ হওয়ার প্রাক্কালে লোকসভায় একপ্রস্থ তীব্র বিতর্ক ও বাকযুদ্ধ দেখা যায়। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভের সময় পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
যদিও রাহুলের এই সমস্ত অভিযোগ ‘তথ্যগতভাবে ভুল’ বলে খারিজ করে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে কেবল জলকামান ও টিয়ার গ্যাসের শেল ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া পুলিশ বা মন্ত্রীর বদলে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশেই বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত পদক্ষেপ হয় বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা দেশজোড়া আন্দোলন এবং বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত এই জালিয়াতি রোধ সংক্রান্ত কঠোর আইন সংশোধন করে সংসদে পাশ করাল কেন্দ্রীয় সরকার।
রাজ্যসভায় পাস হল ঐতিহাসিক বন্দেমাতরম অবমাননা রক্ষা বিল
২০৩১ র মধ্যে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বন্দরের অংশীদার হয়ে আরও বড় সাম্রাজ্যের মালিক হতে পারেন আদানি





