মার্চ থেকে মেলেনি ফান্ড, হাওড়া সহ রাজ্যের স্কুলে মিড-ডে মিলে চরম সংকট

কলকাতা: মার্চ মাসের পর থেকে মিড-ডে মিল বা পিএম পোষণ (PM Poshan) প্রকল্পের কোনো বরাদ্দ না আসায় রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও প্রধানশিক্ষকদের মাথায় হাত…

কলকাতা: মার্চ মাসের পর থেকে মিড-ডে মিল বা পিএম পোষণ (PM Poshan) প্রকল্পের কোনো বরাদ্দ না আসায় রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও প্রধানশিক্ষকদের মাথায় হাত পড়েছে। হাওড়া জেলার বেশ কয়েকটি স্কুলে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, জমানো টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মুদির দোকান থেকে ধার করে পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার জোগাড় করতে হচ্ছে। দিনের পর দিন ধার বেড়ে যাওয়ায় দোকানিদের সামনে মুখ দেখাতে পারছেন না শিক্ষকরা। শুধু হাওড়াই নয়, এই আর্থিক সংকটের ছবি ধরা পড়েছে উত্তরবঙ্গ, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ সহ রাজ্যের নানা প্রান্তের স্কুলেও।

কেন তৈরি হয়েছে এই সংকট?

কেন্দ্রের কাছে আটকে তহবিল: বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে গত মে মাসে পিএম পোষণ খাতে ১,৮০০ কোটি টাকার বাজেট করা হয়। জুন মাসের প্রথমে কেন্দ্রের কাছে এই অর্থ চেয়ে আবেদন করা হলেও, মঙ্গলবার পর্যন্ত এক টাকাও এসে পৌঁছায়নি।

Advertisements

ভাঙছে নিজস্ব জমানো তহবিল: অনেক স্কুলে কম পড়ুয়া থাকায় নিজস্ব তহবিল প্রায় থাকে না বললেই চলে। অন্যদিকে, বড় স্কুলগুলিতে কিছু টাকা জমা থাকলেও, দীর্ঘ চার মাস বরাদ্দ না আসায় সেই সঞ্চিত অর্থও এখন তলানিতে ঠেকেছে।

দোকানিদের কাছে বাড়ছে দেনা: হাওড়ার বালি জগাছা ব্লকের একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানিয়েছেন, গত মার্চের পর আর কোনো টাকা মেলেনি। স্থানীয় মুদির দোকানে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ধার হয়ে গিয়েছে। এভাবেই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষকরা।

বিকাশ ভবনের নির্দেশ ও আশ্বাস

টাকার অভাব থাকলেও স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই মিড-ডে মিল প্রকল্প বন্ধ রাখা যাবে না। একদিনের জন্যও যাতে পড়ুয়াদের খাবার বন্ধ না হয়, তার কড়া নির্দেশ রয়েছে। বিকাশ ভবনের দাবি, বরাদ্দের অনুমোদন মিলেছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যের হাতে সেই অর্থ এসে পৌঁছবে, যার ফলে এই সংকট কেটে যাবে।

তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি জেলাশাসক, জেলা স্কুল পরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করা হয়েছে। দ্রুত কেন্দ্র থেকে অর্থ বরাদ্দ না হলে রাজ্যের হাজার হাজার স্কুলের এই রান্নার কাজ চালু রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক মহল।