ভারতীয় ফুটবলের যুবশক্তিকে আরও বেশি করে মূল স্রোতে তুলে ধরার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলেছে ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগের (IFL) ২০২৬-২৭ মরশুম। তবে এবারের লিগের সবচেয়ে বড় চমক প্রথম একাদশে সর্বাধিক তিন জন বিদেশি ফুটবলার খেলানোর কড়া নিয়ম। মূলত দেশীয় প্রতিভাদের বেশি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করেছে আইএফএল গভর্নিং কাউন্সিল।
সোমবার নয়াদিল্লির ফুটবল হাউস-এ অনুষ্ঠিত হয় আইএফএল গভর্নিং কাউন্সিলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সেখানে লিগের ১১টি ক্লাবের মধ্যে ১০টি ক্লাবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই হাই প্রোফাইল বৈঠকে গরহাজির ছিল কলকাতার অন্যতম প্রধান মহমেডান স্পোর্টিং। আইজল এফসি, গোকুলাম কেরালা, রিয়াল কাশ্মীর থেকে শুরু করে শ্রীনিধি ডেকানের মতো ক্লাবগুলির পাশাপাশি এআইএফএফ-এর তরফে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এম সত্যনারায়ণ, কম্পিটিশন হেড অক্ষয় রোহতগি এবং স্ট্র্যাটেজি ও অপারেশনস হেড নীলদীপ মণ্ডল।
গত ২০২৫-২৬ মরশুমে সম্প্রচার পরিসংখ্যানের নিরিখে আইএফএল অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। সব মিলিয়ে ১৭.৫৬ মিলিয়ন (প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ) দর্শক সরাসরি টেলিভিশনের পর্দায় এই লিগ উপভোগ করেছেন।
এই ইতিবাচক পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করেই নতুন মরসুমের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করছে ফেডারেশন। পাশাপাশি, তৃণমূল স্তরে ফুটবলের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখাও চূড়ান্ত হয়েছে। সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ২০২৭-২৮ মরশুমের আগে প্রতিটি ক্লাবকে এআইএফএফ অ্যাকাডেমি অ্যাক্রেডিটেশন প্রোগ্রামে নথিভুক্ত হয়ে ন্যূনতম ‘টু-স্টার’ রেটিং পেতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে তা উন্নীত করতে হবে ‘থ্রি-স্টার’ রেটিংয়ে।
বৈঠক শেষে এম সত্যনারায়ণ বলেন, “নতুন মরশুম শুরুর আগে এটাই আমাদের প্রথম বৈঠক ছিল। সম্প্রচার এবং ব্যয়ের দিক থেকে গত মরসুমের পরিসংখ্যান আমরা খতিয়ে দেখেছি। অত্যন্ত সীমিত বাজেটের মধ্যে লিগ সফলভাবে আয়োজন করতে পেরে ক্লাবগুলিও খুশি। নতুন মরসুমের বাজেট এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে আমরা আরও একটি সফল ফুটবল মরসুম উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।”





